অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান, লাখো লিটার তেল উদ্ধার

লাখো লিটার তেল উদ্ধার

Mar 30, 2026 - 20:58
 0  3
অবৈধ মজুতের বিরুদ্ধে অভিযান, লাখো লিটার তেল উদ্ধার
সংগৃহীত ছবি

দেশে জ্বালানি তেলের কৃত্রিম সংকট ও অবৈধ মজুত ঠেকাতে সরকার সারাদেশে ব্যাপক অভিযান চালাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)। তিনি জানান, ইতোমধ্যে হাজার হাজার অভিযান পরিচালনার মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল উদ্ধার, মামলা দায়ের এবং শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

সোমবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী মোট ৩ হাজার ১৬৮টি অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। এসব অভিযানে ১৫৩টি মামলা দায়েরের পাশাপাশি প্রায় ৭৫ লাখ টাকা জরিমানা আদায় করা হয়েছে। এছাড়া অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুতের দায়ে ১৬ জনকে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

অভিযানে উদ্ধার করা হয়েছে প্রায় ২ লাখ ৮ হাজার লিটার জ্বালানি তেল, যার মধ্যে ১ লাখ ৪০ হাজার লিটার ডিজেল, ২২ হাজার লিটার অকটেন এবং ২৩ হাজার লিটার পেট্রোল রয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, বাজারে জ্বালানি তেলের ঘাটতির পেছনে প্রকৃত সরবরাহ সংকটের চেয়ে মজুত প্রবণতা বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত লাভের আশায় তেল মজুত করে বাজারে কৃত্রিম সংকট তৈরি করছে, যা সাধারণ মানুষের ভোগান্তি বাড়াচ্ছে।

সরকার এ ধরনের কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে নিয়মিত অভিযান পরিচালনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

জ্বালানি খাতে ভর্তুকির বিষয়েও গুরুত্বপূর্ণ তথ্য তুলে ধরেন মন্ত্রী। তিনি জানান, মার্চ থেকে জুন প্রান্তিকে শুধুমাত্র ডিজেলে প্রায় ১৫ হাজার ৪০৯ কোটি টাকা এবং অকটেনে ৬৩৬ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে। অর্থাৎ মোট ভর্তুকির পরিমাণ দাঁড়াবে ১৬ হাজার ৪৫ কোটি টাকা।

এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থা পেট্রোবাংলা-এর মাধ্যমে এলএনজি আমদানিতে একই সময়ে আরও প্রায় ১৫ হাজার ৭৭ কোটি টাকা ভর্তুকি প্রয়োজন হবে, যা সরকারের জন্য বড় অর্থনৈতিক চাপ তৈরি করছে।

মন্ত্রী আরও জানান, দেশে বর্তমানে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকায় বিক্রি হলেও এর প্রকৃত আমদানি ও সরবরাহ ব্যয় প্রায় ১৯০ টাকা। একইভাবে অকটেনের বিক্রয়মূল্য ১২০ টাকা হলেও প্রকৃত ব্যয় প্রায় ১৫০ টাকা ৭২ পয়সা।

এই পার্থক্য সরকারের ভর্তুকির মাধ্যমে সমন্বয় করা হচ্ছে, যাতে সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত চাপ না পড়ে।

মন্ত্রী বলেন, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের কারণে অনেক দেশ জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে এবং বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করেছে। তবে বাংলাদেশ এখনো সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে।

তিনি উল্লেখ করেন, কৃষি উৎপাদন, পরিবহন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দামে জ্বালানি খাতের প্রভাব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, তাই সরকার এ খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সচেষ্ট।

সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত জ্বালানি কেনা থেকে বিরত থাকতে হবে এবং মজুত প্রবণতা বন্ধ করতে হবে। পাশাপাশি বিদ্যুৎ ও জ্বালানির অপচয় রোধ, অবৈধ সংযোগ প্রতিরোধ এবং জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা কমানো, বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানে নির্দিষ্ট সময়ের পর বিদ্যুৎ ব্যবহার সীমিত করা এবং সাশ্রয়ী জীবনযাপন এখন সময়ের দাবি।

মন্ত্রী জানান, সীমান্তবর্তী কিছু এলাকায় জ্বালানি তেল পাচারের ঘটনা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড দমনে সরকার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে এবং জনগণের সহযোগিতা কামনা করছে।

এছাড়া অবৈধ মজুত ও পাচারের তথ্য দিলে পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে, যাতে সাধারণ মানুষও এ অভিযানে অংশ নিতে উৎসাহিত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে কৃত্রিম সংকট মোকাবিলায় প্রশাসনিক অভিযান, ভর্তুকি ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা—এই তিনটি দিক সমন্বিতভাবে কার্যকর হলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।

সরকারের চলমান এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে বাজার স্থিতিশীল রাখতে কতটা সফল হয়, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0