বেটার বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যের ডাক

Apr 5, 2026 - 18:57
 0  4
বেটার বাংলাদেশ’ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
সংগৃহীত ছবি

সুখী, সমৃদ্ধ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক একটি ‘বেটার বাংলাদেশ’ গড়ে তুলতে দেশবাসীর প্রতি ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাইকে একসাথে এগিয়ে আসতে হবে, কারণ দেশ গড়ার দায়িত্ব সবার।

রোববার সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দফতরের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সভাকক্ষে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের অন্যতম ধর্মীয় উৎসব ইস্টার সানডে উপলক্ষে আয়োজিত এক শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “ধর্ম যার যার, দেশ সবার। আমরা সব ধর্মের মানুষকে সমানভাবে দেখি এবং ভালোবাসি।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, একটি উন্নত ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ধর্মীয় সম্প্রীতি ও সহাবস্থান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

তিনি আরও বলেন, “আসুন, আমরা সবাই যার যার অবস্থান থেকে কাজ করি—একটি বেটার বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ঐক্যবদ্ধ হই।”

অনুষ্ঠানে ফেডারেশন অব প্রোটেস্ট্যান্ট চার্চ ইন বাংলাদেশ-এর সভাপতি ফিলিপ পি. অধিকারীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা ইস্টার সানডে উপলক্ষে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন এবং দেশের সামগ্রিক পরিস্থিতি নিয়ে মতবিনিময় করেন।

প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীকে বড়দিনের অগ্রিম আমন্ত্রণ জানানো হয়। পরে তারা প্রধানমন্ত্রীর হাতে একটি সম্মাননা স্মারক তুলে দেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের প্রশংসা করেন। তারা উল্লেখ করেন—

  • নিম্নআয়ের মানুষের জন্য ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি
  • কৃষকদের জন্য ঋণ মওকুফ সুবিধা
  • ধর্মীয় নেতাদের জন্য বিশেষ সম্মানী ভাতা

এছাড়া তারা বলেন, এসব উদ্যোগের সুফল ইতোমধ্যে সাধারণ মানুষ পেতে শুরু করেছে এবং সরকারের প্রতি আস্থা বাড়ছে।

প্রধানমন্ত্রী তার বক্তব্যে সাম্প্রতিক নির্বাচন প্রসঙ্গও তুলে ধরেন। তিনি বলেন, “একসময় বলা হতো, অন্য ধর্মাবলম্বীরা বিএনপিকে ভোট দেয় না। কিন্তু এবারের নির্বাচনে সেই ধারণা ভুল প্রমাণিত হয়েছে। সব ধর্মের মানুষ আমাদের সমর্থন দিয়েছে।”

তিনি এটিকে দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে উল্লেখ করেন।

দেশের বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, দায়িত্ব গ্রহণের সময় দেশের অবস্থা ছিল “ভঙ্গুর” এবং অনেকটা “যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের মতো”।

তিনি উল্লেখ করেন—

  • অর্থনৈতিক খাতে অস্থিরতা
  • স্বাস্থ্যসেবার সীমাবদ্ধতা
  • যোগাযোগ ব্যবস্থার দুর্বলতা

এছাড়া আন্তর্জাতিক প্রেক্ষাপটে ইরান, যুক্তরাষ্ট্রইসরায়েল-এর সংঘাতের প্রভাবেও দেশের জ্বালানি খাতে নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলে জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতারা কয়েকটি দাবি তুলে ধরেন, যার মধ্যে ছিল—

  • জাতীয় সংসদে সংরক্ষিত আসনে খ্রিস্টান নারী প্রতিনিধিত্ব
  • ইস্টার সানডেতে সরকারি ছুটি ঘোষণা

প্রধানমন্ত্রী এসব দাবি বিবেচনার আশ্বাস দেন এবং বলেন, সরকার সব ধর্মের মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে কাজ করবে।

অনুষ্ঠানে প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর প্রতি শ্রদ্ধা জানানো হয়। নেতারা জানান, দেশের সাত হাজারেরও বেশি চার্চে তার জন্য প্রার্থনা করা হয়েছে এবং বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বাধীন সরকারের সফলতার জন্য নিয়মিত প্রার্থনা করা হচ্ছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী পুনরায় ঐক্যের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, দেশের উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রা নিশ্চিত করতে বিভাজনের রাজনীতি পরিহার করে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, বর্তমান বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে প্রধানমন্ত্রীর এই ঐক্যের আহ্বান দেশের সামাজিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0