গাজী আরমানঃ- যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিতে আয়োজিত আন্তর্জাতিক সম্মেলনে অংশ নিয়ে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান শিশুদের কল্যাণ, শিক্ষা ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প-এর আমন্ত্রণে আয়োজিত ‘ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার: গ্লোবাল কোয়ালিশন সামিট’-এর উদ্বোধনী অধিবেশনে তিনি অংশ নেন।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের উদ্বোধন অনুষ্ঠিত হয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দফতরে। এতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৪০টিরও বেশি ফার্স্ট লেডি ও রাষ্ট্রনেতাদের সহধর্মিণীরা অংশগ্রহণ করেন। শিশুদের উন্নয়ন, সুরক্ষা এবং সম্ভাবনা বিকাশে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের লক্ষ্যে এই আয়োজন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
উদ্বোধনী সেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, একটি দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করে তার শিশুদের ওপর। তাদের জন্য সঠিক যত্ন, মানসম্মত শিক্ষা এবং মানবিক মূল্যবোধ নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগ—যেমন ‘ফ্যামিলি কার্ড’ ও ‘ফার্মার্স কার্ড’—পরিবারকে আর্থিকভাবে শক্তিশালী করার পাশাপাশি শিশুদের নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে উঠতে সহায়তা করছে।
একজন চিকিৎসক হিসেবে তিনি সবার জন্য সহজলভ্য ও মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন। বিশেষ করে শিশুদের জন্য প্রতিরোধমূলক স্বাস্থ্যসেবার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শিক্ষা খাতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও শিক্ষাপ্রযুক্তি দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের জন্য ডিজিটাল সরঞ্জাম সরবরাহ, পাঠ্যক্রম আধুনিকীকরণ এবং মাল্টিমিডিয়া ভিত্তিক শিক্ষাদান পদ্ধতি চালুর মাধ্যমে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করা হচ্ছে বলে তিনি জানান।
নারীর ক্ষমতায়নের প্রসঙ্গেও তিনি কথা বলেন। সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া-এর সময় শুরু হওয়া নারী শিক্ষার অগ্রগতির ধারাবাহিকতা বজায় রেখে বর্তমানে উচ্চশিক্ষা পর্যন্ত নারীদের জন্য সুযোগ বাড়ানোর প্রতিশ্রুতির কথাও তুলে ধরেন তিনি। একইসঙ্গে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান-এর অবদান উল্লেখ করে বলেন, নারীর কর্মসংস্থান বৃদ্ধি দেশের সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
সম্মেলনের পাশাপাশি প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ ১১টি প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহণে একটি প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়, যেখানে শিশুদের শিক্ষার উন্নয়নে বিভিন্ন উদ্ভাবনী প্রযুক্তি তুলে ধরা হয়। ডা. জুবাইদা রহমান ও তাঁর প্রতিনিধিদল এই প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।
তিনি বৈশ্বিক অংশীদারিত্ব জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে বলেন, সরকার, বেসরকারি খাত এবং আন্তর্জাতিক অংশীদারদের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে শিশুদের জন্য নিরাপদ ডিজিটাল পরিবেশ নিশ্চিত করা সম্ভব। এর মাধ্যমে শহর ও গ্রামের মধ্যে বৈষম্য কমানো এবং প্রত্যেক শিশুর জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করা যাবে।
শেষে তিনি এই আন্তর্জাতিক উদ্যোগ আয়োজনের জন্য মার্কিন ফার্স্ট লেডিকে ধন্যবাদ জানান এবং বলেন, পারস্পরিক সহযোগিতা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের মাধ্যমে একটি সহনশীল, মানবিক ও ভবিষ্যৎমুখী প্রজন্ম গড়ে তোলা সম্ভব।
সম্মেলনের সমাপনী অধিবেশন হোয়াইট হাউসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, যেখানে ডা. জুবাইদা রহমান অংশগ্রহণ করবেন।