১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী

আওয়ামী লীগ আমলে পাচার হয়েছে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার

Apr 1, 2026 - 17:57
Apr 1, 2026 - 17:58
 0  4
১৫ বছরে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার: সংসদে প্রধানমন্ত্রী
সংগৃহীত ছবি- প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

গত দেড় দশকে বাংলাদেশ থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ বিদেশে পাচার হয়েছে বলে জাতীয় সংসদে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ প্রায় ২৩৪ বিলিয়ন মার্কিন ডলার।

বুধবার জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য তুলে ধরেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার করে দেশ থেকে পাচার হয়েছে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ১ দশমিক ৮ লাখ কোটি টাকার সমান। তিনি জানান, এই অর্থ বিভিন্ন দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

অর্থ পাচারের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং-চীন—এই ১০টি দেশকে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে সম্মতি পাওয়া গেছে। বাকি দেশগুলোর সঙ্গে এ ধরনের চুক্তি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি।

পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনার লক্ষ্যে সরকারের নেওয়া পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের নেতৃত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। ইতোমধ্যে ১১টি অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলায় অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

এছাড়া দুর্নীতি দমন কমিশনের নেতৃত্বে পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল এবং শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জেআইটি) গঠন করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

সম্পদ জব্দের অগ্রগতি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আদালতের আদেশে ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি টাকার বেশি সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। অন্যদিকে, বিদেশে প্রায় ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি টাকার সম্পদ জব্দ করা হয়েছে। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি টাকার সম্পদ বর্তমানে অবরুদ্ধ অবস্থায় রয়েছে।

তিনি আরও জানান, পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধারের লক্ষ্যে এখন পর্যন্ত ১৪১টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলায় চার্জশিট জমা দেওয়া হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় ইতোমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং ও আর্থিক অপরাধ দমনে সরকার বিদেশে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। একই সঙ্গে অতীত সরকারের সময়ে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র তুলে ধরতে একটি শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি সরকারের অগ্রাধিকারের মধ্যে রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0