৫ বছর বয়সী পর্যন্ত শিশুদের হামের টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে আগামীকাল

হাম-রুবেলা প্রতিরোধে জরুরি টিকাদান শুরু রোববার: ১৮ জেলার ৩০ উপজেলায় অগ্রাধিকারভিত্তিক কর্মসূচি

Apr 4, 2026 - 20:35
 0  5
৫ বছর বয়সী পর্যন্ত শিশুদের হামের টিকা দেওয়া শুরু হচ্ছে আগামীকাল
সংগৃহীত ছবি

দেশে বাড়তে থাকা হাম ও রুবেলা সংক্রমণ মোকাবিলায় জরুরি টিকাদান কর্মসূচি শুরু হচ্ছে আগামীকাল রোববার থেকে। প্রাথমিকভাবে দেশের ১৮ জেলার ৩০টি উপজেলায় ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী শিশুদের অগ্রাধিকার দিয়ে এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবারকল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন

শনিবার সচিবালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী জানান, রোববার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত কেন্দ্রগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা চিহ্নিত করে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের পরামর্শে এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক সময়ে হামের সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বেড়েছে, যার মধ্যে প্রায় ৮২ শতাংশ আক্রান্তই ৬ মাস থেকে ৫ বছরের কম বয়সী শিশু। এ কারণেই প্রথম ধাপে এই বয়সসীমার সব শিশুকে টিকার আওতায় আনা হচ্ছে।

প্রথম পর্যায়ে যে ৩০টি উপজেলায় টিকাদান কার্যক্রম চালানো হবে, তার মধ্যে রয়েছে—
রাজশাহীর গোদাগাড়ী, ঢাকার নবাবগঞ্জ, মুন্সিগঞ্জের লৌহজং, সদর ও শ্রীনগর, ঝালকাঠির নলছিটি, ময়মনসিংহের ত্রিশাল, সদর ও ফুলপুর, চাঁদপুরের হাইমচর ও সদর, বরিশালের মেহেন্দীগঞ্জ ও বাকেরগঞ্জ, পাবনার ঈশ্বরদী, সদর, আটঘরিয়া ও বেড়া, নওগাঁর পোরশা, গাজীপুর সদর, নেত্রকোনার আটপাড়া, শরীয়তপুরের জাজিরা, বরগুনা সদর, মাদারীপুর সদর, কক্সবাজারের মহেশখালী ও রামু, চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর, শিবগঞ্জ ও ভোলাহাট, নাটোর সদর এবং যশোর সদর।

মন্ত্রী জানান, উদ্বোধনের দিন পাঁচটি স্থানে মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা সরাসরি উপস্থিত থাকবেন এবং অন্যান্য উপজেলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সিভিল সার্জনরা কার্যক্রম তদারকি করবেন।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যেসব শিশুর জ্বর রয়েছে বা বর্তমানে অসুস্থ, তাদের এই মুহূর্তে টিকা না দিয়ে সুস্থ হওয়ার পর টিকা দেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

তবে আগে টিকা নেওয়া থাকুক বা না থাকুক, নির্ধারিত বয়সসীমার সব শিশুকেই পুনরায় টিকা দেওয়া হবে বলে জানান মন্ত্রী।

টিকাদান কর্মসূচির পাশাপাশি হাম আক্রান্ত বা জ্বরে ভোগা শিশুদের ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল দেওয়া হবে। তবে সুস্থ শিশুদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র টিকাই দেওয়া হবে, অতিরিক্ত কোনো ওষুধ দেওয়া হবে না।

এছাড়া আগের টিকাদান কেন্দ্রের পাশাপাশি স্কুল, কমিউনিটি সেন্টার ও স্থানীয়ভাবে নির্ধারিত স্থানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হবে, যাতে বেশি সংখ্যক শিশুকে দ্রুত টিকার আওতায় আনা যায়।

মন্ত্রী বলেন, এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রাথমিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় শুরু হলেও ধীরে ধীরে পুরো দেশে এই কর্মসূচি বিস্তৃত করা হবে। জুলাই মাসের মধ্যে এটি নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির অংশ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

টিকাদান হার কমে যাওয়ার বিষয়ে প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, অতীত নিয়ে আলোচনা না করে বর্তমানে শিশুদের সুরক্ষায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, গত কয়েক বছরে নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচিতে ব্যাঘাত এবং বিশেষ ক্যাম্পেইন বন্ধ থাকার কারণে অনেক শিশু টিকার বাইরে থেকে গেছে, যা সংক্রমণ বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাম একটি অত্যন্ত সংক্রামক রোগ এবং সময়মতো টিকা না দিলে দ্রুত ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই দ্রুত ও ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি বাস্তবায়নই বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

দেশে বাড়তে থাকা হাম-রুবেলা সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে সরকারের এই জরুরি টিকাদান কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অভিভাবকদের সচেতন অংশগ্রহণ এবং সময়মতো টিকা গ্রহণ নিশ্চিত করা গেলে শিশুদের এই ঝুঁকিপূর্ণ রোগ থেকে সুরক্ষা দেওয়া সম্ভব হবে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0