জ্বালানি তেলের সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু। তার মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রভাবে সাধারণ মানুষের মধ্যে অতিরিক্ত তেল মজুদের প্রবণতা তৈরি হওয়ায় কৃত্রিম সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে।
শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে সিরাজগঞ্জের সয়দাবাদ এলাকায় ৬৮ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, আগে একটি পেট্রলপাম্পে দিনে যে পরিমাণ তেল প্রয়োজন হতো, এখন তা কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই অস্বাভাবিক চাহিদা বৃদ্ধির পেছনে অনিয়ম ও কালোবাজারির সংশ্লিষ্টতা রয়েছে। ইতোমধ্যে সিরাজগঞ্জসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় অবৈধভাবে তেল বিক্রির ঘটনা ধরা পড়েছে। এ পরিস্থিতি মোকাবেলায় জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারদের তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
সাধারণ জনগণের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল সংগ্রহ না করতে এবং কোনো ধরনের কালোবাজারিকে প্রশ্রয় না দিতে। কেউ এ ধরনের অনিয়মে জড়িত থাকলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে অবহিত করারও অনুরোধ জানান তিনি।
বিদ্যুৎ খাত প্রসঙ্গে তিনি উল্লেখ করেন, নবায়নযোগ্য জ্বালানির মধ্যে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদনে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে। সিরাজগঞ্জে এ খাতে বিনিয়োগের ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জানান, ভবিষ্যতে সেখানে ৩৫০ মেগাওয়াট ক্ষমতার আরও একটি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে।
মন্ত্রী দাবি করেন, বর্তমানে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ থাকায় রমজান মাসে বিদ্যুৎ সরবরাহে কোনো বড় ধরনের সমস্যা হয়নি। পরিদর্শন শেষে তিনি সৌরবিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকায় একটি গাছের চারা রোপণ করেন।
এ সময় জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পরে মন্ত্রী সয়দাবাদে একটি সড়ক উন্নয়ন কাজের উদ্বোধন এবং কামারখন্দ উপজেলা প্রশাসনের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় অংশ নেন।