তেল মজুত-চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি মজুত-চোরাচালান রোধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত থাকা সত্ত্বেও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি ও সীমান্ত দিয়ে চোরাচালানের অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে বাজারে জ্বালানি তেলের দাম স্থিতিশীল রাখতে সরকারের ভর্তুকি কার্যক্রম অব্যাহত রাখার কথাও জানানো হয়েছে।
শনিবার সংসদ ভবনে সরকারদলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম। তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা থাকলেও দেশের ভেতরে যেন কোনোভাবেই জ্বালানি সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে।
চিফ হুইপ জানান, বিশ্ববাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ার প্রভাব মোকাবেলায় সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে। এর মাধ্যমে দেশীয় বাজারে জ্বালানির মূল্য সহনীয় পর্যায়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছে, যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রশাসনকে আরও সক্রিয় হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় ইতোমধ্যে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। বিশেষ করে তেল পাচারের অভিযোগ পাওয়া যাওয়ায় সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে ‘চিরুনি অভিযান’ চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যারা অবৈধভাবে জ্বালানি মজুত বা পাচারের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানানো হয়েছে।
সরকারি সূত্র অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে প্রায় ২ লাখ মেট্রিক টন তেলবাহী জাহাজ বন্দরে পৌঁছেছে এবং আরও সমপরিমাণ তেল আমদানির পথে রয়েছে। ফলে সরবরাহে বিঘ্ন ঘটার কোনো আশঙ্কা নেই বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের।
প্রধানমন্ত্রী সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সক্রিয় ভূমিকা পালনের নির্দেশ দিয়েছেন। জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সমন্বয় করে যাতে কোথাও অতিরিক্ত তেল মজুত বা মূল্য বৃদ্ধি না ঘটে, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে বলা হয়েছে। পাশাপাশি বাজার পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে আগামী সংসদ অধিবেশনে জ্বালানিমন্ত্রী বিস্তারিত বক্তব্য দেবেন বলে জানা গেছে। এতে বর্তমান সরবরাহ, আমদানি পরিকল্পনা, ভর্তুকি কাঠামো এবং ভবিষ্যৎ করণীয় তুলে ধরা হবে।
চিফ হুইপ আরও জানান, সংসদীয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে নতুন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এখন থেকে মন্ত্রীরা নিয়মিতভাবে সংসদ সদস্যদের কাছে বিস্তারিত তথ্য উপস্থাপন করবেন, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় কার্যকর সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিং আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।
বৈঠকের শুরুতে স্পিকারের সহধর্মিণীর মৃত্যুতে শোক প্রকাশ ও দোয়া করা হয়। এছাড়া সাম্প্রতিক বাস ও ট্রেন দুর্ঘটনার কারণ ও প্রতিরোধে গৃহীত পদক্ষেপ নিয়েও আলোচনা হয়। সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সব মিলিয়ে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকার কঠোর নজরদারি, ভর্তুকি এবং প্রশাসনিক তৎপরতার সমন্বয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে চায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে কার্যকর মনিটরিং নিশ্চিত করা গেলে কৃত্রিম সংকট ও বাজার অস্থিরতা অনেকটাই কমে আসবে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0