দেশের ক্রিকেট প্রশাসনে বড় ধরনের পরিবর্তন এনে জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (এনএসসি) বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে ১১ সদস্যের একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করেছে। নতুন এই কমিটির নেতৃত্বে আনা হয়েছে জাতীয় দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল-কে।
রোববার বিকেলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এনএসসির ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান এ সিদ্ধান্তের কথা আনুষ্ঠানিকভাবে জানান।
ঘোষণা অনুযায়ী, নতুন অ্যাডহক কমিটির মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে তিন মাস। এই সময়ের মধ্যে বিসিবির প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্বিন্যাস, অনিয়ম পর্যালোচনা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব থাকবে তাদের ওপর।
ক্রীড়া পরিচালক আমিনুল এহসান বলেন, “এই সিদ্ধান্ত আমরা পূর্ণাঙ্গ যাচাই-বাছাইয়ের ভিত্তিতেই নিয়েছি। ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলকেও বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
নতুন গঠিত কমিটির অন্যান্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন—ফাহিম সিনহা, রফিকুল ইসলাম বাবু, সালমান ইস্পাহানি, তানজিল চৌধুরী, সাবেক ক্রিকেটার আতহার আলী খান, মিনহাজুল আবেদীন নান্নু, ইসরাফিল খসরু, সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ, মির্জা ইয়াসির আব্বাস এবং রাশনা ইমাম।
ক্রিকেট অঙ্গনে অভিজ্ঞতা ও প্রশাসনিক সক্ষমতার সমন্বয়ে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
এনএসসি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিসিবির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অনিয়ম, প্রশাসনিক দুর্বলতা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণে স্বচ্ছতার ঘাটতির অভিযোগ উঠে আসছিল। এসব বিষয় পর্যালোচনা করেই বিদ্যমান বোর্ড ভেঙে দিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন এই কমিটি গঠন করা হয়েছে।
আমিনুল এহসান বলেন, “যে কারণগুলো সামনে এসেছে, সেগুলো আন্তর্জাতিক মানদণ্ডেও গ্রহণযোগ্য হবে বলে আমরা আশা করি।”
এনএসসি ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি)-কে আনুষ্ঠানিকভাবে এই সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের নিয়ম অনুযায়ী, বোর্ডে সরকারি হস্তক্ষেপের বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আইসিসির প্রতিক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, পরিস্থিতি ব্যাখ্যা ও যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারলে আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা সম্ভব হবে।
এর আগে গত ৬ অক্টোবর নির্বাচনের মাধ্যমে বিসিবির সর্বশেষ পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হয়েছিল। সেই বোর্ডের সভাপতি ছিলেন আমিনুল ইসলাম বুলবুল।
নির্বাচনের আগে ও পরে বোর্ড ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা তৈরি হয়। বিশেষ করে তৎকালীন উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এবং রাজনৈতিক নেতা ইশরাক হোসেন-এর মধ্যে মতবিরোধ সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।
নতুন অ্যাডহক কমিটির সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে দেখা হচ্ছে—
- প্রশাসনিক স্বচ্ছতা ফিরিয়ে আনা
- ক্রিকেট পরিচালনায় স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা
- ঘরোয়া ও আন্তর্জাতিক ক্রিকেট সূচি স্বাভাবিক রাখা
- আইসিসির সঙ্গে সমন্বয় বজায় রাখা
বিশেষ করে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ নির্বিঘ্ন রাখতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
ক্রিকেট সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, তামিম ইকবালের নেতৃত্বে এই কমিটি স্বল্প সময়ের মধ্যেই প্রয়োজনীয় সংস্কার কার্যক্রম শুরু করতে পারবে। মাঠের ক্রিকেটে তার অভিজ্ঞতা এবং দলের সঙ্গে দীর্ঘ সম্পৃক্ততা প্রশাসনিক ক্ষেত্রেও ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সব মিলিয়ে, বিসিবির এই আকস্মিক পরিবর্তন দেশের ক্রিকেটে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করতে যাচ্ছে—যার সফলতা অনেকটাই নির্ভর করবে এই তিন মাসের কার্যক্রমের ওপর।