নির্বাচনের পর সহিংসতায় জোরালো নিন্দা জামায়াতে ইসলামের
জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর ১১ দলীয় জোটের সমর্থক এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন ডা. শফিকুর রহমান, যিনি বাংলাদেশের জামায়াতে ইসলামী দলের আমির। শনিবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন, “আমরা শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি অঙ্গীকারবদ্ধ। তবে আমাদের এই অঙ্গীকারকে কেউ দুর্বলতা মনে করবেন না।”
জামায়াত আমির পোস্টে লিখেছেন, “সাম্প্রতিক নির্বাচনের পর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী, ১১ দলীয় জোটের সমর্থকবৃন্দ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এবং বিএনপির মতের সঙ্গে ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান রাখার কারণে যেসব নিরীহ নাগরিক ও ভোটার সহিংসতার শিকার হয়েছেন, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। প্রত্যেক নিরপরাধ ভুক্তভোগীর পাশে আমরা দৃঢ় সংহতি ঘোষণা করছি।”
তিনি আরও বলেন, যে জাতি সদ্য তার গণতান্ত্রিক অধিকার প্রয়োগ করেছে, সেই জাতির মধ্যে সহিংসতা, ভয়ভীতি প্রদর্শন বা প্রতিহিংসার রাজনীতির কোনো স্থান নেই। তিনি সতর্ক করেছেন, জুলাই বিপ্লবের মূল্যবোধ এখনও জীবন্ত, আর দেশের মানুষ কোনো ভয় বা অন্যায়ের কাছে নত হবে না।
ডা. শফিকুর রহমান আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন, অবিলম্বে এসব ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের আইনের আওতায় আনা হোক। তিনি বলেন, “প্রতিটি ঘটনা যথাযথভাবে নথিভুক্ত ও রেকর্ড করতে হবে। দ্রুত ও দৃশ্যমান আইন প্রয়োগ পরিস্থিতি অবনতির হাত থেকে রক্ষা করতে পারে এবং নিশ্চিত করবে, কোনো নাগরিক বিকল্প উপায়ে নিরাপত্তা খুঁজতে বাধ্য হবেন না।”
জামায়াত আমির নির্বাচিত এমপি, প্রার্থী ও স্থানীয় নেতাদেরও নির্দেশ দিয়েছেন, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে এবং প্রমাণগুলো—ছবি, ভিডিওসহ—সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে জমা দিতে। প্রয়োজনে গণমাধ্যমের মাধ্যমে তথ্য প্রকাশ করা হোক, যাতে সত্য জাতির সামনে স্পষ্টভাবে উপস্থাপিত হয়।
ডা. শফিকুর রহমান আসন্ন সরকারের প্রতি বার্তা দিয়েছেন, “জনগণের ম্যান্ডেট কোনো লাইসেন্স নয়; এটি শর্তযুক্ত আমানত। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, সবার সমান নিরাপত্তা এবং রাজনৈতিক পরিচয় নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই সেই আমানতের মূল শর্ত। শান্তিপূর্ণ ও দায়িত্বশীল রাজনীতির প্রতি আমাদের অঙ্গীকার অটুট, তবে কেউ একে দুর্বলতা ভাববেন না।”
তিনি শেষ করেছেন, “জুলাই বিপ্লব মানুষের হৃদয়ে বেঁচে আছে। এ দেশে আর কখনো ভয়, দমন-পীড়ন বা সন্ত্রাসের রাজনীতি ফিরে আসতে দেওয়া হবে না—কারো পক্ষ থেকেই নয়। আল্লাহ আমাদের প্রিয় দেশকে হেফাজত করুন।”
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0