মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা: কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা

মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা: কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা

Mar 30, 2026 - 20:13
Mar 30, 2026 - 20:25
 0  3
মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ আখ্যা: কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজার বিরুদ্ধে শতকোটি টাকার মানহানি মামলা
কুষ্টিয়া-৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য মো. আমির হামজা

কুষ্টিয়া–৩ (সদর) আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াত নেতা আমির হামজা-র বিরুদ্ধে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ (টুকু)-কে ‘নাস্তিক ও ইসলামবিদ্বেষী’ বলে মন্তব্য করার অভিযোগে শতকোটি টাকার মানহানির মামলা দায়ের করা হয়েছে। বিষয়টি স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

সোমবার দুপুরে সিরাজগঞ্জ সদর আমলি আদালতে মামলাটি করেন জেলা জাতীয়তাবাদী আইনজীবী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এস এম নাজমুল ইসলাম। মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বাদীপক্ষের আইনজীবী হামিদুল ইসলাম। তিনি জানান, বিচারক সুমন কুমার কর্মকার মামলাটি গ্রহণ করে আদেশের জন্য অপেক্ষমাণ রেখেছেন।

বাদী এস এম নাজমুল ইসলাম বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ ও বীর মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি সম্মান জানিয়ে দেওয়া বক্তব্যের ভুল ব্যাখ্যা করে মন্ত্রীকে অপমান করা হয়েছে। এটি শুধু একজন ব্যক্তির সম্মানহানি নয়, বরং রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধের ওপরও আঘাত।” তিনি আরও বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার আশায়ই আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন।

জানা যায়, গত ২৬ মার্চ স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে একটি বক্তব্য দেন।

এর পরিপ্রেক্ষিতে গত শুক্রবার কুষ্টিয়া সদর উপজেলার হাটশ হরিপুর বড় জামে মসজিদে জুমার নামাজের আগে আলোচনায় এমপি আমির হামজা ওই বক্তব্যের সমালোচনা করতে গিয়ে মন্ত্রীকে ‘নাস্তিক’ ও ‘ইসলামবিদ্বেষী’ হিসেবে উল্লেখ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

এই বক্তব্যটি পরে একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে, যা নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া তৈরি হয় বিভিন্ন মহলে।

ঘটনাটি সামনে আসার পর স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। কেউ কেউ এটিকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অংশ হিসেবে দেখলেও অন্যরা বলছেন, দায়িত্বশীল পদে থেকে এমন মন্তব্য করা শোভন নয়।

আইনজীবী ও বিশ্লেষকদের মতে, জনসম্মুখে কাউকে ‘নাস্তিক’ বা ‘ধর্মবিদ্বেষী’ আখ্যা দেওয়া ব্যক্তি মর্যাদা ক্ষুণ্ণ করার শামিল হতে পারে এবং তা আইনের দৃষ্টিতে মানহানিকর অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইনে মানহানির অভিযোগ ফৌজদারি ও দেওয়ানি—উভয় ধারাতেই বিচারযোগ্য। অভিযোগ প্রমাণিত হলে অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে আর্থিক জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

এই মামলায় বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ দাবি করা হয়েছে, যা মামলার গুরুত্ব ও আলোচনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।

বর্তমানে আদালতের আদেশের অপেক্ষায় রয়েছে মামলাটি। আদালত প্রাথমিক শুনানির ভিত্তিতে পরবর্তী পদক্ষেপ নির্ধারণ করবেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই মামলা শুধু ব্যক্তিগত মানহানির বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকবে না; বরং এটি দেশের রাজনৈতিক বক্তব্যের সীমারেখা, দায়িত্বশীলতা এবং পারস্পরিক সম্মানবোধ নিয়েও নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিতে পারে।

একদিকে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও রাষ্ট্রীয় মূল্যবোধ, অন্যদিকে রাজনৈতিক বক্তব্যের ভাষা—এই দুইয়ের সংঘাতে তৈরি হওয়া এই ঘটনা এখন আদালতের বিচারাধীন। এর চূড়ান্ত রায় ভবিষ্যতে রাজনৈতিক বক্তব্যের ধরন ও সীমা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0