ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ ও দেশত্যাগ নিয়ে সমালোচনা, ফেসবুকে ব্যাখ্যা

জল্পনা এখনো কাটেনি

Feb 15, 2026 - 13:26
 0  4
ফয়েজ আহমদ তৈয়্যবের পদত্যাগ ও দেশত্যাগ নিয়ে সমালোচনা, ফেসবুকে ব্যাখ্যা
সহকর্মীদের সাথে ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব

অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস–এর আইসিটি ও টেলিযোগাযোগ বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব–এর পদত্যাগ ও দেশ ছাড়ার খবরে শনিবার জুড়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা দেখা গেছে। নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পরপরই তার বিদেশ যাত্রা নিয়ে নানা জল্পনা ছড়িয়ে পড়ে, বিশেষ করে ফেসবুকে বিষয়টি নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা যায়।

ফেসবুক পোস্টে ব্যাখ্যা

সমালোচনার প্রেক্ষাপটে শনিবার রাতে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে একটি দীর্ঘ পোস্ট দেন ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব। সেখানে তিনি দায়িত্ব ছাড়ার প্রক্রিয়া এবং দেশত্যাগের কারণ তুলে ধরেন।

পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ফেব্রুয়ারির ৮, ৯ ও ১০ তারিখে তিনি আইসিটি, পিটিডি ও বিটিআরসি থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিদায় নেন। ১০ ফেব্রুয়ারি ছিল তার শেষ কর্মদিবস। সেদিন সহকর্মীদের সঙ্গে বিদায়ী অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথাও জানান তিনি।

তবে একই পোস্টে দেশ ছাড়ার বিষয়ে দুটি ভিন্ন ব্যাখ্যা উঠে আসে। একদিকে তিনি দাবি করেন, তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি নিয়েছেন। অন্যদিকে বলেন, পরিবারের কাছে যাওয়ার জন্য যথাযথভাবে ছুটি চেয়ে বিদেশে গেছেন। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ছেলের স্কুলে অভিভাবক সভা এবং স্ত্রীর জরুরি চিকিৎসা সংক্রান্ত প্রয়োজন রয়েছে। দীর্ঘ সময় পরিবারকে সময় দিতে না পারার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

নিয়োগ ও দায়িত্ব

নেদারল্যান্ডসভিত্তিক অর্থনীতিবিদ ও গবেষক হিসেবে পরিচিত ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব ২০২৫ সালের ৫ মার্চ অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী হিসেবে নিয়োগ পান। তাকে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। দায়িত্ব পালনকালে বিভিন্ন নীতিগত উদ্যোগ ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে তিনি যুক্ত ছিলেন।

দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ ওঠে। সামাজিক মাধ্যমে এ নিয়েও সমালোচনা হয়। তবে নিজের পোস্টে তিনি দাবি করেছেন, দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ধরনের অনৈতিক বা বেআইনি কাজ করেননি। সব সিদ্ধান্ত নিয়ম মেনেই নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।

জল্পনা এখনো কাটেনি

নির্বাচনের ফল ঘোষণার পরপরই তার বিদেশ যাত্রা হওয়ায় বিষয়টি নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। যদিও তিনি এটিকে পরিকল্পিত বিদায় ও পারিবারিক প্রয়োজনের অংশ হিসেবে ব্যাখ্যা দিয়েছেন, তবুও সামাজিক মাধ্যমে আলোচনা এখনো থামেনি।

সরকারি পর্যায় থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বিস্তারিত বক্তব্য না এলেও, সংশ্লিষ্ট মহলে বিষয়টি নিয়ে আগ্রহ ও কৌতূহল অব্যাহত রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0