রমজানে রোজা ভাঙার জন্য খেজুর

স্বাস্থ্য ও পুষ্টির এক আদর্শ খাবার

Feb 19, 2026 - 17:27
 0  3
রমজানে রোজা ভাঙার জন্য খেজুর
রোজাদারদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করে খেজুর

রমজান মাসে সূর্যাস্তের সময় ইফতারে খেজুরের বিশেষ স্থান রয়েছে। ইসলামের নবী মোহাম্মদ (সা.) রোজা ভাঙার জন্য খেজুর খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন এবং কুরআনেও খেজুরের উল্লেখ রয়েছে। শুধুমাত্র ঐতিহ্য নয়, খেজুরের পুষ্টিগুণ রোজাদারদের জন্য এটিকে আদর্শ খাবার হিসেবে তৈরি করে।

যুক্তরাজ্য-ভিত্তিক পুষ্টিবিদ শাহনাজ বশির বলেন, রোজা ভাঙার সময় দীর্ঘক্ষণ না খাওয়ার পর শরীর শক্তির জন্য তাৎক্ষণিকভাবে গ্লুকোজ তৈরি করতে চায়। খেজুরে প্রচুর পরিমাণে প্রাকৃতিক চিনি এবং জটিল কার্বোহাইড্রেট থাকে, যা শরীরকে দ্রুত শক্তি সরবরাহ করে।

খেজুর ভিটামিন এ, কে, বি৬ এবং আয়রনে সমৃদ্ধ। এছাড়া এতে পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়ামের মতো ইলেক্ট্রোলাইট রয়েছে, যা শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে সাহায্য করে। শাহনাজ বশির বলেন, “অনেকেই খেজুর এবং পানি একসাথে গ্রহণ করেন; এটি শক্তি দেয় এবং শরীরের পানির ভারসাম্য বজায় রাখে। অতিরিক্ত ইলেক্ট্রোলাইট নেওয়ার প্রয়োজন হয় না।”

রমজানের সময় কোষ্ঠকাঠিন্য ও পেট ফাঁপা সমস্যা সাধারণ। খেজুরের ফাইবার অন্ত্রের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং বর্জ্য পদার্থ দ্রুত বের করতে সহায়তা করে। ফাইবারযুক্ত খাদ্য সারা দিনে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করে এবং অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতাকে কমিয়ে দেয়।

শাহনাজ বশির আরও বলেন, “খেজুর হজম শুরু করার ইঙ্গিত দেয়। এটি রোজাদারের জন্য ভারসাম্যপূর্ণ খাবার নিশ্চিত করতে সাহায্য করে।” যদি কেউ সরাসরি খেজুর পছন্দ না করেন, তবে স্মুদি বা শরবতে খেজুর মিশিয়ে খাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। দুধ, দই ও অন্যান্য শুকনো ফলের সঙ্গে মিশিয়ে খাওয়ার মাধ্যমে খেজুর আরও পুষ্টিকর ও হজম সহজ হয়।

এইভাবে খেজুর কেবল ঐতিহ্য নয়, বরং রোজাদারদের শরীরের জন্য শক্তি, পুষ্টি এবং হজম সুবিধা নিশ্চিত করে। এটি দীর্ঘক্ষণ রোজা রাখার পর ইফতারে স্বাস্থ্যকর উপায়ে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার এক নিখুঁত উপায়।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0