দেশে জ্বালানি তেলের মজুদ ও সরবরাহ পরিস্থিতি সম্পূর্ণ স্বাভাবিক রয়েছে বলে জানিয়েছে সরকার। বাজারে কোনো ধরনের ঘাটতির আশঙ্কা নেই উল্লেখ করে সাধারণ মানুষকে অযথা আতঙ্কিত না হয়ে অতিরিক্ত তেল কেনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দেশের চাহিদা অনুযায়ী নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক বাজার থেকে তেল আমদানি করছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখেই সরবরাহ ব্যবস্থা শক্তিশালী করা হয়েছে, ফলে দেশের অভ্যন্তরে কোনো ধরনের সংকট তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা নেই।
সরকারি সূত্রগুলো বলছে, সম্প্রতি আন্তর্জাতিক অঙ্গনে অস্থিরতার কারণে কিছু এলাকায় তেলের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়। এর প্রেক্ষিতে কিছু মানুষ অতিরিক্ত জ্বালানি কিনে সংরক্ষণের চেষ্টা করছেন, যা বাজারে সাময়িক চাপ তৈরি করছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দাবি, এটি প্রকৃত সংকট নয়; বরং আতঙ্কজনিত আচরণের ফল।
বিজ্ঞপ্তিতে বিশেষভাবে সতর্ক করে বলা হয়েছে, পেট্রোল, অকটেন ও ডিজেলের মতো জ্বালানি অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ হওয়ায় এগুলো বাসাবাড়ি বা অনিরাপদ স্থানে মজুদ করা মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এতে অগ্নিকাণ্ডসহ বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে, যা প্রাণহানির কারণও হতে পারে।
এছাড়া, যারা অবৈধভাবে জ্বালানি তেল মজুদ করে কৃত্রিম সংকট তৈরি বা অতিরিক্ত মুনাফা অর্জনের চেষ্টা করছেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে অবৈধ মজুতের ঘটনা শনাক্ত করা হয়েছে এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
জ্বালানি তেলের অবৈধ মজুদ প্রতিরোধে প্রশাসন সারাদেশে সক্রিয় রয়েছে। প্রতিটি জেলায় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হচ্ছে। এসব অভিযানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের কর্মকর্তারা যৌথভাবে অংশ নিচ্ছেন এবং নিয়মিত তদারকি চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকার এখন পর্যন্ত জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি করেনি এবং বর্তমান মূল্য স্থিতিশীল রাখা হয়েছে। এ অবস্থায় গুজব বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বাজার অস্থির করার অপচেষ্টা থেকে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, জ্বালানি খাতে স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে সরকারকে যেমন সরবরাহ ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করতে হবে, তেমনি সাধারণ জনগণকেও দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে। অপ্রয়োজনীয় মজুত ও আতঙ্ক এড়িয়ে চললে বাজার স্বাভাবিক রাখা সহজ হবে।
সব মিলিয়ে সরকার মনে করছে, সঠিক তথ্যের প্রচার, কঠোর নজরদারি এবং জনসচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্বালানি তেল নিয়ে বিদ্যমান অস্থিরতা দ্রুত কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।