নতুন সরকার শপথ না নিতেই আন্দোলনের ডাক, এটা ভালো লক্ষণ নয়: মেজর (অব.) হাফিজ

নতুন সরকার এখনও শপথ গ্রহণ করেনি

Feb 16, 2026 - 17:26
 0  3
নতুন সরকার শপথ না নিতেই আন্দোলনের ডাক, এটা ভালো লক্ষণ নয়: মেজর (অব.) হাফিজ
সংগৃহীত ছবি

বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ আজ সোমবার রাজধানীতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১-দলীয় নির্বাচনী জোটের বিক্ষোভ সমাবেশের ঘোষণা সমালোচনা করেছেন। তিনি বলেন, এটি দেশের জন্য ইতিবাচক সংকেত নয়।

মহাখালীয়ে রাওয়া ক্লাবে মুক্তিযুদ্ধের প্রধান সেনাপতি জেনারেল (অব.) এম এ জি ওসমানী-এর ৪২তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই মন্তব্য করেন। সভার প্রধান অতিথি ছিলেন হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

তিনি বলেন, “নতুন সরকার এখনও শপথ গ্রহণ করেনি, অথচ আজও আন্দোলনের ডাক দেওয়া হচ্ছে। দেশের জনগণ ও জাতীয় স্বার্থ বিবেচনা করে বিরোধী দলকে এ ধরনের কর্মসূচি বিবেচনা করতে হবে।”

নতুন সংসদে বিরোধী দলের ভূমিকা সম্পর্কে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “তারেক রহমান বিরোধী দলের নেতাদের বাসায় গেছেন। এটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। আমরা আশা করি, বিরোধী দল গঠনমূলক সমালোচনা করবে এবং জনগণকে সমস্যায় ফেলবে না।”

নতুন মন্ত্রিসভা গঠনের বিষয়ে তিনি বলেন, “আমি বিস্তারিত জানি না, তবে শুনেছি মন্ত্রিসভা ছোট হবে। যারা দীর্ঘদিন ধরে স্বাধিকার, গণতন্ত্র ও জনকল্যাণের জন্য সংগ্রাম করেছেন, তারা অবশ্যই মন্ত্রিসভায় স্থান পাবেন। দক্ষতা ও জনপ্রিয়তা থাকা কর্মকর্তাদের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দেওয়া হবে। নবীন ও প্রবীণদের সংমিশ্রণে একটি কার্যকরী মন্ত্রিসভা গঠিত হবে।”

জেনারেল এম এ জি ওসমানীর স্মরণ

হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেন, স্বাধীন দেশে জেনারেল ওসমানীর প্রাপ্য মর্যাদা তিনি পাননি। তবে এতে ক্ষতি হয়নি তার—ক্ষতি হয়েছে জাতির। “আমরা ভাগ্যবান যে স্বাধীনতাযুদ্ধে তার মতো একজন নেতৃত্ব পেয়েছিলাম। তার শৃঙ্খলা, ব্যক্তিত্ব ও নৈতিকতা যুগান্তকারী।”

সভা আয়োজন করে রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া)। স্বাগত বক্তব্য দেন রাওয়ার চেয়ারম্যান কর্নেল মোহাম্মদ আবদুল হক এবং সূচনা বক্তব্য দেন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক লে. কর্নেল আবু নওরোজ খুরশিদ। উপস্থিত ছিলেন সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার ভাইস মার্শাল এ জি মাহমুদ, মেজর (অব.) জামিল ডি আহসান, অর্থনীতিবিদ মাহবুব উল্লাহ ও এয়ার কমোডর মো. শফিকুল ইসলাম।

তিনি আরও বলেন, “মুক্তিযুদ্ধের সময় বাঙালির মধ্যে দলাদলির প্রবণতা কম ছিল। এর পেছনে কর্নেল আতাউল গনি ওসমানীর নেতৃত্ব ছিল। স্বাধীনতার পরও ইতিহাসকে সঠিকভাবে জনগণের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি। নিজেদের কৃতিত্ব প্রচারের প্রবণতা বেশি থাকলেও অন্যের অবদান স্বীকার করা হয়নি।”

জেনারেল ওসমানীর অবদান তুলে ধরে হাফিজ উদ্দিন বলেন, “মুক্তিযুদ্ধ গণতন্ত্রের জন্য হয়েছিল। স্বাধীনতার পর তা পূর্ণতা পায়নি। ১৯৭৫ সালের জানুয়ারিতে একদলীয় শাসনের বিরোধিতা করতে তিনি প্রকাশ্যে পদত্যাগ করেন। এটি তাঁর নৈতিক দৃঢ়তার পরিচায়ক।”

তিনি আরও দাবি করেন, মুক্তিযুদ্ধে সর্বাধিনায়ক হিসেবে জেনারেল ওসমানীকে মরণোত্তর “ফিল্ড মার্শাল” খেতাবে ভূষিত করা উচিত। অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তাদের সংগঠন থেকে একটি প্রতিনিধিদল তিন বাহিনীর প্রধান ও প্রধানমন্ত্রীর কাছে সুপারিশ পাঠাবে এবং তিনি ব্যক্তিগতভাবে বিষয়টির সমর্থনে উদ্যোগ নেবেন।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0