নির্বাচনে তরুণদের দাবি: বেকারত্ব কমাতে নীতিগত পরিবর্তন
নারীর নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান: তরুণ সমাজের মূল দাবি
নিজস্ব প্রতিবেদক ; এই বছর ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের তরুণ সমাজের প্রত্যাশা আগের যে কোনোবারের তুলনায় আরও শক্তিশালী ও বিস্তৃত হয়ে উঠেছে। তরুণরা শুধু ভোট দিতে চায় না—তারা চাইছেন তাদের স্বপ্ন, চাওয়া ও দুঃখের গল্পগুলো জাতীয় নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রবিন্দুতে জায়গা পাক। জনসংখ্যার বড় অংশই তরুণ হওয়ায় তাদের গণতান্ত্রিক অংশগ্রহণ ও স্বকীয় চাওয়া-পাওয়ার গুরুত্ব নানা মহলেই বিশেষভাবে গুরুত্ব পাচ্ছে।
তরুণ সমাজের সবচেয়ে বড় দাবি হলো বেকারত্বের মোকাবিলা। বিশাল তরুণ প্রজন্ম শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে বাজারে নামলেও চাকরির সুযোগ সীমিত—এজন্য গ্র্যাজুয়েট তরুণদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি খাতে পর্যাপ্ত কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, দক্ষতা উন্নয়নমূলক প্রশিক্ষণ এবং শিল্পখাতে বিনিয়োগ বাড়াতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান উঠছে। বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তি, ফ্রিল্যান্সিং ও স্টার্টআপ খাতে কর্মসংস্থান ও উদ্যোক্তা সুবিধা বৃদ্ধির প্রত্যাশা তরুণদের মধ্যে জোরালো।
তরুণদের ভোটাধিকার ও প্রত্যাশা সম্পর্কিত সর্বশেষ জরিপেও দেখা গেছে, প্রায় ৪০ শতাংশ তরুণ entrepreneurship-এর প্রতি আকৃষ্ট, কর্মসংস্থানের অভাব ও শিক্ষা-প্রস্তুতি মিলিয়ে এই পথটি বেছে নিতে চায়। তার মানে হলো তরুণরা আর শুধু চাকরি নয়, চাকরি সৃষ্টি করতেই চাইছে।
এক সন্ধ্যায় ঢাকা শহরের একটি ক্যাফেতে সময় কাটানো তরুণ উদ্যোক্তা ইব্রাহিম খান বলেন, তিনি সিএসইতে স্নাতকোত্তর করে নিজের IT স্টার্টআপ ‘গিকসর্ট’ প্রতিষ্ঠা করেছেন। ইব্রাহিম বলেন, “সরকার যদি তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সহজ ফান্ডিং, কর সুবিধা ও বাস্তবসম্মত নীতি তৈরি করে, তাহলে আইটি স্টার্টআপ খাত দ্রুত এগিয়ে যাবে এবং আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে পারবে।” এই মত দিয়ে তিনি নিজের ব্যথা ও প্রত্যাশা উভয়ই প্রকাশ করেছেন।
তরুণরা নতুন ধরনের কর্মসংস্থান—যেমন ফ্রিল্যান্সিং ও রিমোট জব—ও আধুনিক জাতীয় পরিকল্পনার অঙ্গ হিসেবে দেখতে চান। আন্তর্জাতিক পেমেন্ট গেটওয়ে সহজীকরণ, দ্রুত ইন্টারনেট সেবা এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিস্তারের মাধ্যমে এই খাতকে বৈদেশিক মুদ্রা আয় করার একটি বড় উৎস হিসেবে গড়ে তোলার প্রস্তাব তরুণদের কাছ থেকে আসে।
তরুণ সমাজ মনে করেন, নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও সরকারের এক বড় দায়িত্ব। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও গণপরিবহনে নারীদের নিপীড়ন ও অনিরাপত্তা দূর করতে কঠোর আইন প্রয়োগ, দ্রুত বিচার, নিরাপদ অবকাঠামো এবং নারী-সহায়ক কর্মসংস্থান তৈরির দাবি জোরদার হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের জন্য পার্ট-টাইম চাকরির সুযোগ তৈরি হওয়া উচিত—এতে তারা পড়াশোনার পাশাপাশি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন ও অর্থোপার্জন করতে পারবে। তরুণরা মনে করেন, বিশ্ববিদ্যালয়–শিল্পখাতের মধ্যে সমন্বয় বাড়ালে নতুন দক্ষতা অর্জনের পথও তৈরি হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং প্রযুক্তিনির্ভর বিষয় অন্তর্ভুক্ত করাও তরুণ সমাজের বড় দাবির অংশ। তারা চায়, শিক্ষা ব্যবস্থা যেন সরাসরি কর্মবাজারের চাহিদার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়—এটি তরুণদের কর্মসংস্থান ও উদ্যোগে পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করবে।
শিক্ষা–শুধু চাকরির নয়—স্বাস্থ্যসেবার সহজলভ্যতা, দুর্নীতিমুক্ত প্রশাসন, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং তরুণদের রাজনৈতিক অংশগ্রহণ বাড়ানোর প্রত্যাশা তরুণদের মাঝে প্রবল রয়েছে। তাঁরা মনে করেন, এসব ক্ষেত্র উন্নত হলে বর্তমান আবহ আমার আগামী প্রজন্মকে আরও শক্তিশালী করে তুলবে।
তরুণদের উচ্চ ভোটঅংশগ্রহণ ও রাজনৈতিক অংশগ্রহণ শুধু নির্বাচনে ভোট দিয়ে শেষ হবে না—তাদের চিন্তাধারা, অভিজ্ঞতা ও চাওয়া-পাওয়ার প্রতিফলন রাষ্ট্রীয় নীতিতে চাইছেন অনেকে। জরিপে দেখা গেছে তরুণ ভোটারের একাংশ এখনও রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নিতে কিছুটা স্থির নয়; তবু তরুণ সমাজের মধ্যে নির্বাচনকে সমর্থন দেখানো এবং ভোটের মাধ্যমে পরিবর্তন আনার প্রত্যাশা জোরালো।
যুক্তরাজ্যের গবেষণা ও বিশ্লেষণ দেখায়—বাংলাদেশে নির্বাচনী সময় তরুণেরা রাজনৈতিক ও নীতি নির্ধারণে নিজেদের মন শক্ত করছে, যদিও এখনও অনেকে অনুভব করেন যে তাঁদের ভাবনা রাজনৈতিক ব্যবস্থায় পূর্ণরূপে অন্তর্ভুক্ত হচ্ছে না।
ভবিষ্যৎ তরুণ প্রজন্মকে নতুন বাংলাদেশ গড়ার শক্তি হিসেবে দেখা হচ্ছে—তাদের প্রত্যাশা, উদ্যোগ এবং বাস্তব পরিকল্পনাগুলো যদি নতুন সরকারের অgen্ডায় সঠিকভাবে রাখা হয়, তবে বাংলাদেশের অর্থনীতির টেকসই উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক প্রতিযোগিতায় অবস্থান শক্ত করা সম্ভব।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0