১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা

নজর আইসিসির সিদ্ধান্তে

Feb 9, 2026 - 12:31
Feb 9, 2026 - 12:34
 0  2
১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা
১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত–পাকিস্তান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ

আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ভারত ও পাকিস্তানের বহুল প্রতীক্ষিত ম্যাচটি আদৌ অনুষ্ঠিত হবে কি না—এ প্রশ্ন ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র জল্পনা। ভারত, পাকিস্তানসহ বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি ক্রিকেটভক্ত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন এই ম্যাচের ভাগ্য কী হয়, তা জানার জন্য।

এই অনিশ্চয়তার মধ্যেই রোববার পাকিস্তানের লাহোরে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) এবং পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) শীর্ষ কর্মকর্তাদের মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ওই বৈঠকে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সভাপতি আমিনুল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে। বৈঠকে মূলত ভারতের বিপক্ষে নির্ধারিত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ ম্যাচ বর্জন করার বিষয়ে পাকিস্তানের অবস্থান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। তবে বৈঠক শেষে এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা স্পষ্ট বার্তা পাওয়া যায়নি।

এ প্রসঙ্গে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের সহ-সভাপতি রাজীব শুক্লার কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে অপারগতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, এই বিষয়ে সব দায়িত্ব আইসিসির ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে এবং আইসিসি যে সিদ্ধান্ত নেবে, ভারত সেটিই মেনে নেবে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি পাকিস্তান দল শেষ পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত কার্যকর করে, তাহলে আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী তাদের পয়েন্ট কাটা যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। শুধু তাই নয়, এই সিদ্ধান্ত বর্তমান আইসিসি টিভি সম্প্রচার স্বত্ব চুক্তি নিয়েও জটিলতা সৃষ্টি করতে পারে। পাশাপাশি ভবিষ্যতের সম্প্রচার ও বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর ওপরও এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এই বিতর্কের সূত্রপাত হয় যখন বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড তাদের দলের নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কথা তুলে ধরে এবং ভারতের বাইরে তাদের ম্যাচগুলো আয়োজনের অনুরোধ জানায়। তবে আইসিসি সেই আবেদন গ্রহণ না করায় বিষয়টি আরও ঘনীভূত হয়। এর পরপরই পাকিস্তান সরকার ঘোষণা দেয়, তারা ১৫ ফেব্রুয়ারি ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কট করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ পরে এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশের প্রতি সংহতি প্রকাশ করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তার বক্তব্যে বিষয়টি কেবল ক্রীড়াঙ্গনের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক মাত্রাও যোগ করে।

এদিকে আইসিসি জানিয়েছে, এখনো পর্যন্ত তারা পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের কাছ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো লিখিত নোটিস পায়নি। আইসিসির এক কর্মকর্তা বলেন, এমন কোনো সিদ্ধান্ত বৈশ্বিক ক্রিকেট কাঠামোর ওপর বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে।

সব মিলিয়ে, ১৫ ফেব্রুয়ারির ভারত–পাকিস্তান ম্যাচ ঘিরে অনিশ্চয়তা এখনো কাটেনি। শেষ পর্যন্ত কী সিদ্ধান্ত আসে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব ক্রিকেট।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0