ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণ এবং বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) চেয়ারম্যান তারেক রহমানের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। মঙ্গলবার বিকেল ৪টায় ঢাকার জাতীয় সংসদ ভবন-এর দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে বহুল প্রত্যাশিত এই অনুষ্ঠান।
সংসদ সচিবালয় সূত্রে জানা গেছে, শপথ আয়োজনের সকল প্রশাসনিক ও প্রটোকল সংক্রান্ত প্রস্তুতি ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে। এদিন নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা প্রথমে সাংবিধানিক শপথ নেবেন। পাশাপাশি তারা সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবেও পৃথকভাবে শপথ গ্রহণ করবেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
প্রচলিত রীতির বাইরে আয়োজন
দীর্ঘদিন ধরে প্রধানমন্ত্রীর ও মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়ে আসছিল বঙ্গভবন-এ। তবে এবার সেই রীতি ভেঙে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত পরিসরে আয়োজন করা হচ্ছে শপথ অনুষ্ঠান। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নতুন সরকার একটি ভিন্ন বার্তা দিতে চেয়েছে।
সদ্য নিয়োগপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম সিরাজ মিয়া পুরো অনুষ্ঠান পরিচালনার দায়িত্ব পালন করবেন। অনুষ্ঠানে নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথবাক্য পাঠ করাবেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন।
দেশি–বিদেশি অতিথিদের উপস্থিতি
বিএনপির এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, অনুষ্ঠানে প্রায় ১২০০ দেশি-বিদেশি অতিথির উপস্থিতি নিশ্চিত করা হয়েছে। আমন্ত্রিত বিদেশি অতিথিদের মধ্যে রয়েছেন ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল এবং মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু।
এছাড়া নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার-এর উপস্থিত থাকার সম্ভাবনার কথা জানা গেছে। যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রা-ও অনুষ্ঠানে যোগ দিতে পারেন বলে দলীয় সূত্র উল্লেখ করেছে।
আইন উপদেষ্টা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সার্কভুক্ত দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদেরও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। ফলে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক কূটনীতিতেও এই শপথ অনুষ্ঠান বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে।
রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আগ্রহ
নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানকে ঘিরে দেশের রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন পর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে এই আয়োজনকে ঘিরে নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে। বিশেষ করে উন্মুক্ত স্থানে শপথ গ্রহণ এবং বিদেশি অতিথিদের উল্লেখযোগ্য উপস্থিতি অনুষ্ঠানটিকে আলাদা মাত্রা দিয়েছে।
সব মিলিয়ে দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত হতে যাওয়া এই শপথ অনুষ্ঠান শুধু আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং নতুন রাজনৈতিক অধ্যায়ের সূচনালগ্ন হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের উপস্থিতিতে মঙ্গলবারের এই আয়োজন জাতীয় রাজনীতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে সংশ্লিষ্ট মহলের অভিমত।