সকালে না সন্ধ্যায়—কখন ব্যায়াম করলে মিলবে বেশি উপকার?

দেহঘড়ি

Apr 29, 2026 - 20:05
 0  3
সকালে না সন্ধ্যায়—কখন ব্যায়াম করলে মিলবে বেশি উপকার?
প্রতীকী ছবি

সুস্থ থাকতে নিয়মিত ব্যায়ামের বিকল্প নেই—এ কথা সবারই জানা। তবে কখন ব্যায়াম করা সবচেয়ে বেশি উপকারী, তা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা মত রয়েছে। নতুন এক গবেষণা বলছে, ব্যায়ামের সময় নির্ধারণে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে আমাদের শরীরের নিজস্ব জৈবিক ঘড়ি বা বডি ক্লক।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, সবার জন্য এক সময়ের ব্যায়াম উপযোগী নয়। বরং ব্যক্তি ভেদে শরীরের স্বাভাবিক ছন্দ বা ‘ক্রোনোটাইপ’ অনুযায়ী ব্যায়াম করলে তা থেকে সর্বোচ্চ উপকার পাওয়া যায়। যারা ভোরে ঘুম থেকে ওঠেন, অর্থাৎ ‘মর্নিং টাইপ’ মানুষ, তাদের জন্য সকালের ব্যায়াম বেশি কার্যকর। অন্যদিকে যারা রাত জাগতে অভ্যস্ত, তাদের জন্য সন্ধ্যার দিকে শরীরচর্চা বেশি উপযোগী।

ওপেন হার্ট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, শরীরের জৈবিক সময়সূচির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে ব্যায়াম করলে তা হৃদ্‌যন্ত্রের সুস্থতায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে যারা উচ্চ রক্তচাপ বা হৃদরোগের ঝুঁকিতে রয়েছেন, তাদের ক্ষেত্রে এই পদ্ধতি আরও কার্যকর বলে মনে করছেন গবেষকরা।

গবেষণাটিতে অংশ নেন প্রায় ১৩৫ জন মধ্যবয়সী ব্যক্তি, যাদের অধিকাংশই অতিরিক্ত ওজন বা উচ্চ রক্তচাপের মতো সমস্যায় ভুগছিলেন। তাদের তিন মাস ধরে সপ্তাহে পাঁচদিন ৪০ মিনিট করে দ্রুত হাঁটার পরামর্শ দেওয়া হয়। অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে কেউ তাদের স্বাভাবিক দেহঘড়ি অনুযায়ী ব্যায়াম করেছেন, আবার কেউ করেছেন এর বিপরীত সময়ে।

ফলাফলে দেখা যায়, উভয় দলের মধ্যেই কিছু উন্নতি হয়েছে। তবে যারা নিজেদের জৈবিক ঘড়ির সঙ্গে মিল রেখে ব্যায়াম করেছেন, তারা তুলনামূলক বেশি উপকার পেয়েছেন। তাদের রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে এসেছে, ঘুমের মান উন্নত হয়েছে এবং রক্তে শর্করার মাত্রাও ছিল তুলনামূলক স্বাভাবিক।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, আমাদের শরীরের অভ্যন্তরীণ ঘড়ি শুধু ঘুমের সময়সূচিই নির্ধারণ করে না, বরং হরমোনের ভারসাম্য, শক্তির মাত্রা এবং বিপাকক্রিয়ার ওপরও প্রভাব ফেলে। তাই ব্যায়ামের সময় ঠিক করতেও এই বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া জরুরি।

তবে ‘একই নিয়ম সবার জন্য’—এই ধারণাকে গুরুত্ব দিতে নারাজ বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, শরীরের স্বাভাবিক সময়সূচি এবং সামাজিক সময়সূচির মধ্যে বড় ধরনের অমিল থাকলে তা স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে যারা রাত জাগেন, তাদের জোর করে ভোরে ব্যায়াম করতে বাধ্য করা হলে তা উপকারের বদলে ক্ষতির কারণও হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ হলো—ব্যায়ামের সময়ের চেয়ে নিয়মিততা বেশি জরুরি। সপ্তাহে অন্তত ১৫০ মিনিট মাঝারি মাত্রার ব্যায়াম বা ৭৫ মিনিট উচ্চমাত্রার ব্যায়াম করার পাশাপাশি অন্তত দুইদিন শক্তি বাড়ানোর ব্যায়াম করা উচিত। একই সঙ্গে দীর্ঘ সময় বসে থাকার অভ্যাস কমিয়ে আনার ওপরও জোর দেওয়া হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, হাঁটা, দৌড়, সাঁতার কিংবা জিম—যে ধরনের ব্যায়ামই হোক না কেন, তা যদি নিয়মিত করা যায় এবং শরীরের স্বাভাবিক ছন্দের সঙ্গে মিল রেখে করা যায়, তবে সুস্থ জীবনযাপনের পথে তা বড় ভূমিকা রাখতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0