বাইক থেকে নৌযান, জ্বালানি সংকটের অভিযোগ সবখানে
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি চাপে বাংলাদেশ, কৃষি-পরিবহনসহ নানা খাতে প্রভাব
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাতের জেরে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতার প্রভাব বাংলাদেশেও দৃশ্যমান হতে শুরু করেছে। এরই মধ্যে গ্রাম ও শহরের বিভিন্ন খাতে জ্বালানি সংকটের প্রভাব পড়ার কথা জানিয়েছেন গবেষক ও সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।
তাদের মতে, গ্রামীণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ সংকট কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে শহরে রাইড শেয়ারিং সেবা, পণ্য পরিবহন, কৃষিখাত এবং সামগ্রিক কর্মসংস্থানে এর নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
বর্তমানে বোরো ধানের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সেচ কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ সময়ে পর্যাপ্ত পানি সরবরাহ না হলে কৃষি উৎপাদনে বড় ধরনের ক্ষতির ঝুঁকি রয়েছে। যদিও সাম্প্রতিক বৃষ্টিপাত কৃষকদের জন্য কিছুটা স্বস্তি এনেছে।
অন্যদিকে, ডিজেলের সরবরাহ দীর্ঘমেয়াদে ব্যাহত হলে সেচ পাম্পের পাশাপাশি গণপরিবহন ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাও বড় ধরনের চাপে পড়তে পারে। ইতোমধ্যে দেশের কিছু এলাকায় পণ্যবাহী ট্রাক ও নৌযান পর্যাপ্ত জ্বালানি না পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ঢাকাসহ বিভিন্ন এলাকায় পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেল নিতে দীর্ঘ সারি দেখা যাচ্ছে। অনেক চালক ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও প্রয়োজনীয় জ্বালানি সংগ্রহ করতে পারছেন না। এতে রাইড শেয়ারিং চালকদের আয়ও কমে গেছে বলে জানা গেছে।
গ্রামাঞ্চলেও একই চিত্র। অনেক কৃষক অভিযোগ করছেন, সেচের জন্য প্রয়োজনীয় ডিজেল সংগ্রহ করতে তারা এক বাজার থেকে আরেক বাজারে ঘুরছেন, তবুও চাহিদা অনুযায়ী জ্বালানি পাচ্ছেন না। ফলে ধান ও অন্যান্য ফসল উৎপাদন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
তবে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দেশে জ্বালানি তেলের ঘাটতির আশঙ্কা নেই। জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগের মুখপাত্র মনির হোসেন চৌধুরী জানিয়েছেন, এপ্রিল মাসে জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক থাকবে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রাম বন্দরে নতুন করে প্রায় ৬১ হাজার টন ডিজেল এসে পৌঁছেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে কৃষি অর্থনীতি, কর্মসংস্থান এবং সেবাখাতসহ সামগ্রিক অর্থনীতিতে চাপ তৈরি হতে পারে। তবে পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার ইতোমধ্যে কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে।
এর মধ্যে অফিস সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে সকাল ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত নির্ধারণ, ব্যাংক লেনদেনের সময় সীমিত করা, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশনা এবং জ্বালানি ও বিদ্যুৎ খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত উল্লেখযোগ্য। পাশাপাশি বিয়ে বা সামাজিক অনুষ্ঠানে আলোকসজ্জা নিরুৎসাহিত করা হয়েছে।
সরকার বিকল্প উৎস থেকে জ্বালানি আমদানি বাড়ানোর উদ্যোগও নিয়েছে। মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া এবং কাজাখস্তান থেকে জ্বালানি আনার বিষয়ে কার্যক্রম চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
সব মিলিয়ে, পরিস্থিতি এখনো নিয়ন্ত্রণে আছে বলে সরকারের দাবি থাকলেও, মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা ভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে—যেখানে জ্বালানি সংকটের প্রভাব ধীরে ধীরে বিস্তৃত হচ্ছে দেশের নানা খাতে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0