মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সেখানে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপদে দেশে ফিরিয়ে আনতে জোর তৎপরতা চালাচ্ছে যুক্তরাজ্য সরকার। এ পর্যন্ত ৯২ হাজারেরও বেশি ব্রিটিশ নাগরিককে বাণিজ্যিক বিমান এবং সরকারি চার্টার ফ্লাইটের মাধ্যমে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার।
ডাউনিং স্ট্রিটে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে দেওয়া সর্বশেষ বিবৃতিতে তিনি জানান, মধ্যপ্রাচ্যে চলমান নিরাপত্তা পরিস্থিতি ঘনিষ্ঠভাবে পর্যবেক্ষণ করছে লন্ডন। অঞ্চলটিতে অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বিশেষ করে লেবানন-এ বসবাসরত বা অবস্থানরত ব্রিটিশ নাগরিকদের সহায়তার জন্য অতিরিক্ত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রয়োজনে তাদের দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
এদিকে আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে পূর্ব ভূমধ্যসাগরীয় এলাকায় সামরিক উপস্থিতিও জোরদার করেছে যুক্তরাজ্য। প্রধানমন্ত্রী জানান, সাইপ্রাস-এ যুক্তরাজ্যের সামরিক ঘাঁটিতে হাজার হাজার ব্রিটিশ সেনা সদস্য, তিনটি স্কোয়াড্রন যুদ্ধবিমান এবং ড্রোন প্রতিরোধী বিশেষ ইউনিট মোতায়েন রয়েছে। সম্ভাব্য আকাশ হামলা বা ড্রোন হামলা মোকাবিলায় এসব বাহিনী প্রস্তুত রাখা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বিশেষ করে ইরান থেকে সম্ভাব্য হামলার ঝুঁকি মাথায় রেখেই এই প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
কূটনৈতিক তৎপরতার কথাও তুলে ধরেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার সাম্প্রতিক কয়েকদিন ধরে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশের নেতাদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। উত্তেজনা কমানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার করা হয়েছে।
আন্তর্জাতিক সমন্বয় জোরদারের অংশ হিসেবে স্টারমার আজ সকালে মার্ক কার্নি-এর সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পাশাপাশি শিগগিরই তিনি ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি-এর সঙ্গেও আলোচনা করবেন বলে জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, চলমান বৈশ্বিক অস্থিরতার মধ্যেও ইউক্রেন-এর প্রতি আন্তর্জাতিক সমর্থন অব্যাহত রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ এখনও চলমান এবং এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ঐক্য বজায় রাখা প্রয়োজন।
স্টারমার আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত যেন কোনোভাবেই ভ্লাদিমির পুতিন-এর জন্য কৌশলগত সুবিধায় পরিণত না হয়, সে বিষয়েও পশ্চিমা দেশগুলো সতর্ক রয়েছে। তার মতে, বৈশ্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি বর্তমানে অত্যন্ত সংবেদনশীল এবং একাধিক অঞ্চলে সংঘাত বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও সমন্বয় এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।