গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশের এমডি-সিইও গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ
গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশের এমডি-সিইও গ্রেপ্তার, কারাগারে প্রেরণ
গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরবর্তীতে আদালতে হাজির করা হলে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়।
রোববার রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় নিজ বাসা থেকে মো. সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার করা হয়। উত্তরা পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কাজী মো. রফিক আহমেদ গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। পুলিশ জানায়, গৃহকর্মী নির্যাতনের অভিযোগে দায়ের করা মামলার ভিত্তিতেই মো. সাফিকুর রহমানকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। মামলায় তার স্ত্রী এবং বাসায় কর্মরত আরও দুই গৃহকর্মীকেও আসামি করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতনের অভিযোগ মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, প্রায় সাত থেকে আট মাস ধরে ১১ বছর বয়সী এক শিশুকন্যা তাদের বাসায় গৃহকর্মী হিসেবে কাজ করছিল। এ সময় শিশুটির ওপর নিয়মিত শারীরিক নির্যাতন চালানো হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশে নির্যাতনের স্পষ্ট চিহ্ন পাওয়া গেছে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে গাজীপুরের শহীদ তাজউদ্দীন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সেখানে সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। শিশুর বাবার দায়ের করা মামলা ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর রোববার শিশুটির বাবা উত্তরা পশ্চিম থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলায় মো. সাফিকুর রহমান, তার স্ত্রী এবং বাসায় কর্মরত আরও দুই গৃহকর্মীর বিরুদ্ধে নির্যাতনের অভিযোগ আনা হয়। পুলিশ জানায়, মামলাটি তদন্তের প্রাথমিক পর্যায়েই অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় চারজনকেই গ্রেপ্তার দেখানো হয়। সোমবার বিকেলে তাদের আদালতে হাজির করা হলে বিচারক কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
পুলিশ জানিয়েছে, শিশুটির শারীরিক অবস্থা ও নির্যাতনের মাত্রা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। শিশু নির্যাতনের মতো গুরুতর অপরাধে কোনো ধরনের ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানিয়েছে পুলিশ।
ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর শিশু গৃহকর্মীদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শিশুদের গৃহকর্মে নিয়োগ আইনত নিষিদ্ধ হলেও বাস্তবে তা এখনো পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
এ ধরনের ঘটনায় কঠোর আইন প্রয়োগ ও সামাজিক সচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব আরোপ করছেন তারা। গৃহকর্মী শিশুদের প্রতি সহিংসতা বন্ধে কার্যকর নজরদারি এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে বিভিন্ন মহল থেকে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0