দোকানপাট-শপিংমল সাতটা পর্যন্ত খোলার রাখার সিদ্ধান্ত

জ্বালানি সাশ্রয়ে সময়সীমা শিথিল: দোকান-শপিংমল এখন খোলা থাকবে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত

Apr 5, 2026 - 18:49
 0  3
দোকানপাট-শপিংমল সাতটা পর্যন্ত খোলার রাখার সিদ্ধান্ত
সন্ধ্যা ছয়টার পরিবর্তে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত খোলা রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার

দেশে জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে আরোপিত সময়সীমায় আংশিক পরিবর্তন এনেছে সরকার। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সব দোকানপাট ও শপিংমল এখন সন্ধ্যা ৬টার পরিবর্তে ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে। রোববার সচিবালয়ে নিজ মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এ তথ্য জানান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত

গত বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভা বৈঠকে মধ্যপ্রাচ্যে চলমান অস্থিরতা ও সম্ভাব্য জ্বালানি সংকটের প্রেক্ষাপটে দেশের সব দোকানপাট ও শপিংমল সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দামের ঊর্ধ্বগতি এবং সরবরাহে অনিশ্চয়তা তৈরি হওয়ায় সরকার এ ধরনের পদক্ষেপ নিতে বাধ্য হয় বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।

বিশ্ববাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব ইতোমধ্যে দেশের বিদ্যুৎ উৎপাদন, পরিবহন খাত এবং শিল্পকারখানায় পড়তে শুরু করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, আমদানি-নির্ভর জ্বালানি ব্যবস্থার কারণে বাংলাদেশ বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত থাকতে পারে না।

তবে হঠাৎ করে সময়সীমা কমিয়ে আনার সিদ্ধান্তে ক্ষোভ প্রকাশ করেন ব্যবসায়ীরা। বাংলাদেশ দোকান ব্যবসায়ী মালিক সমিতি-র নেতারা জানান, সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে দোকান বন্ধ করতে হলে ব্যবসায়ীদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়তে হবে, বিশেষ করে রমজান-পরবর্তী কেনাকাটার মৌসুম ও উৎসবকে সামনে রেখে।

তারা রাত ৮টা পর্যন্ত দোকান খোলা রাখার অনুমতি চেয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর কাছে আবেদন জানান। এর প্রেক্ষিতে সরকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করে।

রোববার প্রতিমন্ত্রী জানান, ব্যবসায়ীদের দাবির বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে প্রধানমন্ত্রী সময়সীমা এক ঘণ্টা বাড়ানোর নির্দেশ দিয়েছেন। ফলে এখন দোকান ও শপিংমল সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত খোলা রাখা যাবে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আমরা একদিকে জ্বালানি সাশ্রয় নিশ্চিত করতে চাই, অন্যদিকে ব্যবসা-বাণিজ্য যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয়, সেটিও বিবেচনায় রাখতে হচ্ছে। তাই একটি সমন্বিত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

তিনি আরও জানান, পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে ভবিষ্যতে সময়সীমা আরও সমন্বয় করা হতে পারে।

সরকারি নির্দেশনা কার্যকর করতে প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে তদারকির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, নির্ধারিত সময়ের বাইরে দোকান খোলা রাখলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এছাড়া বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা বন্ধ রাখা, অফিস-আদালয়ে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সংযম এবং শিল্পখাতে বিকল্প জ্বালানি ব্যবহারের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, এ ধরনের সীমাবদ্ধতা স্বল্পমেয়াদে ব্যবসায়িক কার্যক্রমে প্রভাব ফেললেও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় স্থিতিশীলতা আনতে সহায়ক হতে পারে। তবে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে ভারসাম্য বজায় রাখা জরুরি, যাতে ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীরা বেশি ক্ষতিগ্রস্ত না হন।

ভোক্তাদের ক্ষেত্রেও সময়সীমা পরিবর্তনের প্রভাব পড়বে। অনেকেই সন্ধ্যার পর কেনাকাটায় অভ্যস্ত হওয়ায় নতুন সময়সূচির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগতে পারে।

বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতি এবং জ্বালানি সরবরাহের ওপর নির্ভর করে ভবিষ্যতে সরকার আরও কঠোর বা শিথিল সিদ্ধান্ত নিতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সব মিলিয়ে, জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকার ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে একটি সমঝোতার পথ তৈরি হয়েছে। এখন দেখার বিষয়, এই নতুন সময়সীমা বাস্তবে কতটা কার্যকর হয় এবং দেশের জ্বালানি ব্যবস্থাপনায় কতটা ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0