দেশের প্রায় ২৪ হাজার কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত
ভোট ঘিরে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা প্রস্তুতি
নিজস্ব প্রতিবেদক , ঢাকাঃ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে সারাদেশে প্রায় ২৪ হাজার ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত করেছে পুলিশ প্রশাসন। তবে এসব কেন্দ্রেও নির্বাচন নির্বিঘ্ন রাখতে পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) বাহারুল আলম।
আজ মঙ্গলবার রাজধানীর পুলিশ হেডকোয়ার্টার্সে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাচনের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কথা বলেন আইজিপি। তিনি জানান, পুলিশের প্রাথমিক মূল্যায়নে সারাদেশে ৮ হাজার ৭৭০টি ভোটকেন্দ্রকে ‘অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং প্রায় ১৬ হাজার কেন্দ্রকে ‘মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
আইজিপি বলেনঃ এই শ্রেণিবিন্যাস খুবই প্রাথমিক এবং কিছুটা আরবিট্রারি। এগুলো একেবারে নির্দিষ্টভাবে বলা যায় না। তবে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ ও মধ্যম ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র মিলিয়ে প্রায় ২৪ হাজারের মতো হয়। এই কেন্দ্রগুলোতে আমরা বডিক্যাম ব্যবহারের মাধ্যমে নজরদারি জোরদার করার চেষ্টা করবো।”
আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, এবারের নির্বাচনকে ঘিরে নিরাপত্তা ব্যবস্থায় কোনো ঘাটতি রাখা হয়নি। বাংলাদেশে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে নিরাপদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে—এই প্রস্তুতি আমরা নিয়েছি,” বলেন তিনি।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, নির্বাচনকে ঘিরে তিন স্তরের নিরাপত্তা বলয় গড়ে তোলা হয়েছে।
১. ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা
২. ভ্রাম্যমাণ নিরাপত্তা টিম
৩. স্ট্রাইকিং ফোর্স বা দ্রুত প্রতিক্রিয়াশীল বাহিনী
এই তিন স্তরের সমন্বয়ে যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বলেন, যে পরিমাণ নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাতে নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার মতো শক্তি কারও নেই। কোথাও কোনো বিচ্ছিন্ন অপরাধমূলক ঘটনা ঘটতে পারে—ডাকাতি, খুন বা অন্য কোনো ক্রাইম। কিন্তু সেগুলো দিয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া থামানো সম্ভব হবে না।”
তিনি আরও বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নির্বাচন চলাকালীন এবং পরবর্তী সময়েও সতর্ক থাকবে, যাতে ভোটগ্রহণ ও ফলাফল ঘোষণার পুরো প্রক্রিয়া শান্তিপূর্ণ থাকে।
পুলিশ সূত্র জানায়, ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে বডিক্যাম ছাড়াও সিসিটিভি, মোবাইল প্যাট্রোলিং এবং কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে সার্বক্ষণিক নজরদারি থাকবে। প্রয়োজন হলে দ্রুত অতিরিক্ত ফোর্স মোতায়েনের ব্যবস্থাও প্রস্তুত রাখা হয়েছে। নির্বাচনের আগে বিপুল সংখ্যক ভোটকেন্দ্রকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও পুলিশ প্রশাসনের দাবি—নিরাপত্তা প্রস্তুতি এমন পর্যায়ে রয়েছে যে, নির্বাচন প্রক্রিয়া ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা নেই। এখন দেখার বিষয়, মাঠপর্যায়ে এই প্রস্তুতির বাস্তব প্রয়োগ কতটা কার্যকর হয়।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0