ভোটের ফল ঘোষণার পর নাশকতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা
ভোটের ফল ঘোষণার পর নাশকতার চেষ্টা করলে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা
র্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেছেন, নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার পর যদি কেউ তা মেনে না নিয়ে নাশকতা, জালভোট, ব্যালট বক্স ছিনতাই বা অশান্তি সৃষ্টি করতে চায়, তাদের বিরুদ্ধে আইনের সর্বোচ্চ পর্যায়ের ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ের রাজধানী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বুধবার বিকেলে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি বলেন, “যারা ভোটকেন্দ্রে নাশকতার চেষ্টা করবে, তারা নিজেদেরই ঝুঁকি নিচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো ঝুঁকি নেই। কারণ আমরা আইন অনুযায়ী কাজ করব। কোনো ধরনের হেজিটেশন থাকবে না। ঝুঁকি থাকবে আইন ভঙ্গকারীদেরই।”
র্যাব মহাপরিচালক জানান, তফসিল ঘোষণার আগ থেকেই তারা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি সন্ত্রাসীদের গ্রেফতারে জোরালো অভিযান চালানো হয়েছে। গত দেড় থেকে দুই মাসে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার করা হয়েছে এবং কুমিল্লাসহ বিভিন্ন এলাকায় সম্প্রতি অস্ত্র উদ্ধার অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
তিন ধাপে নিরাপত্তা পরিকল্পনা
তিনি বলেন, নির্বাচনের নিরাপত্তা তিনটি পর্যায়ে ভাগ করে নেওয়া হয়েছে—
১) নির্বাচন-পূর্ব,
২) নির্বাচনের দিন,
৩) নির্বাচন-পরবর্তী সময়।
নির্বাচন-পূর্ব সময় শান্তিপূর্ণভাবে শেষ হয়েছে বলেও জানান র্যাব ডিজি। নির্বাচনের দিনে র্যাব স্ট্রাইকিং ও মোবাইল ফোর্স হিসেবে দায়িত্ব পালন করবে। ইতোমধ্যে ৬৪ জেলায় র্যাবের টিম মোতায়েন রয়েছে।
র্যাব মহাপরিচালক আরও বলেন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, কোস্ট গার্ড, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, আনসার ও পুলিশসহ সব বাহিনী একযোগে কাজ করছে। রিটার্নিং অফিসার, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, ইউএনও ও ওসিদের সঙ্গে সমন্বয় করে মোবাইল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স দায়িত্ব পালন করবে র্যাব।
ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্র সম্পর্কে প্রশ্নে তিনি বলেন, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কেন্দ্রগুলোকে ‘গুরুত্বপূর্ণ’ ও ‘অধিক গুরুত্বপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেই অনুযায়ী স্থির (স্ট্যাটিক) ফোর্স মোতায়েন করা হয়েছে।
তিনি জানান, প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও আগের চেয়ে বাড়ানো হয়েছে। প্রায় প্রতিটি কেন্দ্রে সিসিটিভি রয়েছে এবং পুলিশের প্রায় ২৫ হাজার ৭০০ বডি ক্যামেরা ব্যবহার করা হচ্ছে। ড্রোন, র্যাবের ডগ স্কোয়াড, বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিট ও হেলিকপ্টার প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
বহিরাগতদের উপস্থিতি ও আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে শহিদুর রহমান বলেন, নির্বাচন কমিশনের নির্দেশনা অনুযায়ী অযৌক্তিকভাবে বহিরাগতদের অবস্থান নিষিদ্ধ। এই বিষয়ে র্যাব সতর্ক নজরদারিতে রয়েছে।
তিনি বলেন, বড় অঙ্কের অর্থ লেনদেন বা ভোটার প্রভাবিত করার চেষ্টা দেখা গেলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
“কোথাও যদি বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটে এবং ভোটগ্রহণের পরিবেশ নষ্ট হয়, তাহলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে,” বলেন তিনি। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কেন্দ্রের ভোট স্থগিত বা বাতিলের সিদ্ধান্তও নির্বাচন কমিশন নিতে পারে।
র্যাব মহাপরিচালক জানান, জঙ্গি হামলার কোনো নির্দিষ্ট হুমকি নেই। তবু যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0