হরমুজ প্রণালি খোলা রাখার উপায় নিয়ে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বৈঠক
হরমুজ প্রণালি
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালি খোলা রাখা নিয়ে আলোচনা করতে বৈঠকে বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। ইউরোপীয় কূটনৈতিক মহলের শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে এই প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে উঠেছে।
ইইউর পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা নীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কালাস ব্রাসেলসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকের আগে বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা বজায় রাখতে কী ধরনের সমন্বিত পদক্ষেপ নিতে পারে, তা নিয়েই মূলত আলোচনা হবে। তার ভাষায়, ইউরোপের নিজস্ব অর্থনৈতিক স্বার্থের কারণেই এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ সচল রাখা প্রয়োজন।
মধ্যপ্রাচ্যের হরমুজ প্রণালি বিশ্ব জ্বালানি বাণিজ্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রুট হিসেবে পরিচিত। আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থাগুলোর তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বে উৎপাদিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে বিভিন্ন দেশে পরিবাহিত হয়। ফলে এই পথ বন্ধ হয়ে গেলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে বড় ধরনের অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।
সাম্প্রতিক সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে প্রণালিটি দিয়ে চলাচলকারী বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ হামলার শিকার হয়েছে বলে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে জানা গেছে। এসব ঘটনার কারণে তেল পরিবহনকারী ট্যাংকারসহ বিভিন্ন বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার বিষয়টিও সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি সতর্ক করে বলেছেন, হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যদি মার্কিন মিত্ররা যথেষ্ট সহযোগিতা না করে, তাহলে তা ন্যাটো জোটের ভবিষ্যতের জন্য নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
অন্যদিকে ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার ও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মধ্যে সাম্প্রতিক এক আলোচনায়ও হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা ও বৈশ্বিক বাণিজ্য চলাচল স্বাভাবিক রাখার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে উঠে এসেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার ফলে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এ কারণে ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের মিত্র দেশগুলো এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথে নিরাপত্তা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক বাণিজ্য নির্বিঘ্ন রাখতে যৌথ উদ্যোগ নেওয়ার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করছে।
বিশ্ব বাণিজ্য ও জ্বালানি সরবরাহের জন্য কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই প্রণালি খোলা রাখা আগামী দিনে আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও নিরাপত্তা আলোচনার অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন পর্যবেক্ষকরা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0