ছুটির দিনেও কাজে গতি: প্রথমবার তেজগাঁওয়ে অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী
শহীদ দিবসের ডাকটিকিট উন্মোচন ও বৃক্ষরোপণ
সরকারি কাজের গতিশীলতা বাড়ানোর অঙ্গীকার বাস্তবায়নে সপ্তাহের ছুটির দিন শনিবারেও অফিস করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শপথ নেওয়ার পর এই প্রথম তিনি শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে অবস্থিত প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়-এ দাপ্তরিক কার্যক্রম পরিচালনা করেন।
সকাল ১০টা ১০ মিনিটে কার্যালয়ে পৌঁছালে তাকে স্বাগত জানান মুখ্য সচিব এ বি এম আব্দুস সাত্তার ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন। কার্যালয়ের মূল ভবনে প্রবেশের আগে প্রধানমন্ত্রী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। দীর্ঘদিন ধরে কর্মরত কয়েকজনকে নাম ধরে ডেকে খোঁজখবর নেন তিনি। উপস্থিত অনেকে বলেন, প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতায় কর্মপরিবেশে ইতিবাচক বার্তা গেছে।
আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন
গত ১৯ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকে প্রশাসনিক কার্যক্রম দ্রুত করতে প্রয়োজন হলে সাপ্তাহিক ছুটির দিনেও কাজ করার সিদ্ধান্তের কথা জানান প্রধানমন্ত্রী। শনিবারের এই উপস্থিতি সেই ঘোষণারই বাস্তব রূপ। সংশ্লিষ্টরা জানান, অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প, উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি এবং মন্ত্রণালয়গুলোর সমন্বয় জোরদার করতেই এই উদ্যোগ।
বৃক্ষরোপণ ও মোনাজাত
কার্যালয় চত্বরে একটি স্বর্ণচাঁপা ফুলের চারা রোপণ করেন প্রধানমন্ত্রী। পরে দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. একেএম শামছুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ দিবস উপলক্ষে ডাকটিকিট উন্মোচন
মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস ২০২৬ উপলক্ষে স্মারক ডাকটিকিট উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী। ডাকটিকিট প্রকাশের মাধ্যমে ভাষা আন্দোলনের শহীদদের প্রতি রাষ্ট্রীয় শ্রদ্ধা পুনর্ব্যক্ত করা হয়। প্রতিবছর ২১ ফেব্রুয়ারি উপলক্ষে বিশেষ স্মারক ডাকটিকিট প্রকাশ করে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ।
ঐতিহাসিক কার্যালয়ে নতুন অধ্যায়
উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। এর আগে একই কার্যালয়ে ১৯৯১ ও ২০০১ সালে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন তার মা খালেদা জিয়া। দীর্ঘ বিরতির পর তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে এই ঐতিহাসিক কার্যালয়ে আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরু করলেন।
প্রশাসনিক সূত্র বলছে, সরকারি সেবার গতি বাড়ানো, সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া দ্রুত করা এবং আমলাতান্ত্রিক জট কমানোর লক্ষ্যেই ছুটির দিনেও দাপ্তরিক কার্যক্রম চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী অন্যান্য মন্ত্রণালয় ও বিভাগেও সীমিত পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি চালু হতে পারে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0