দিনাজপুরের বাগানে আগাম মুকুল, বাম্পার ফলনের আশায় চাষিরা
বাগানে আগাম বুকিং
মাঘের শেষে হালকা শীতেই দিনাজপুর জেলার আমবাগানগুলো ভরে উঠেছে মুকুলের সৌরভে। গাছভেদে এখনো সবখানে মুকুল না এলেও যেসব গাছে এসেছে, সেগুলোতে ঘন ও সুস্থ মুকুল দেখা যাচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ না হলে চলতি মৌসুমে ভালো ফলনের প্রত্যাশা করছেন স্থানীয় চাষিরা।
নিয়ম মেনে আসা মুকুলে স্থায়িত্ব বেশি
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, শেষ মাঘে স্বাভাবিক সময় অনুযায়ী যেসব গাছে মুকুল আসে, সেগুলো সাধারণত বেশি স্থায়ী হয়। আবহাওয়ার সামান্য পরিবর্তন বা জাতভেদে কিছু গাছে আগাম মুকুল দেখা দিতে পারে। তবে সামগ্রিকভাবে আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে এবার ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
জেলা জুড়ে প্রায় পাঁচ হাজার আটশ হেক্টর জমিতে আম চাষ হয়। এ সময়ে বাগান মালিকরা গাছের পরিচর্যায় ব্যস্ত। নিয়মিত স্প্রে, সেচ এবং রোগবালাই দমনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উন্নত পদ্ধতিতে চাষে জোর
কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষ ও সঠিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা গেলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো সম্ভব। পাশাপাশি যথাযথ সংরক্ষণ, পরিবহন ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থার উন্নয়ন হলে কৃষকের লাভও বাড়বে।
দিনাজপুরে হিমসাগর, গোপালভোগ, মিশ্রীভোগ, ফজলি, ল্যাংড়া, আম্রপালি, নাগ ফজলি, ব্যানানা, কার্টিমন, হাড়িভাঙ্গা, রূপালী, বারি-৪, গৌরমতি ও গুটি জাতসহ বিভিন্ন প্রজাতির আমের চাষ হচ্ছে।
বাগানে আগাম বুকিং
স্থানীয় আমচাষি ফরুক হোসেন ও জহুরুল ইসলাম জানান, মুকুল আসার আগেই গাছের যত্ন শুরু করতে হয়। এ বছর কিছুটা আগেভাগেই মুকুল দেখা দিয়েছে। খবর পেয়ে ঢাকা, রংপুর ও চট্টগ্রামসহ বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ব্যবসায়ীরা বাগান পরিদর্শনে আসছেন। অনেকে আগাম চুক্তিতে বাগান কিনে নিচ্ছেন।
শহরের উপশহর এলাকার শিক্ষক আজহার আলী জানান, তার বাগানের গাছে প্রচুর মুকুল এসেছে। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন হবে বলে আশা করছেন তিনি।
চাষি রহুল আমিন বলেন, তার ১২ থেকে ১৫ বছর বয়সী গুটি জাতের গাছে গত দুই বছর ধরেই আগাম মুকুল আসছে। মুকুল টিকে থাকলে এবার বাম্পার ফলনের সম্ভাবনা রয়েছে। একই অভিজ্ঞতার কথা জানান মোহনপুর মোড় এলাকার রুহুল আমিন, যার ২০ বছর বয়সী গুটি জাতের গাছেও কয়েক বছর ধরে আগাম মুকুল আসছে।
রামপুর ইউনিয়নের সরকারপাড়া গ্রামের সাগর মিয়া ও সোহেল মিয়া বলেন, প্রায় এক মাস আগে থেকেই অনেক গাছে মুকুল এসেছে। অধিকাংশ বাগান এখন সাদা-হলুদ মুকুলে ছেয়ে গেছে।
বসিরবানিয়া বড় মেরেয়াপাড়া গ্রামের বাগান মালিক আবু রেজা প্রামানিক জানান, তার প্রায় তিন হাজার আমগাছ রয়েছে। মুকুল দেখা দেওয়ার পর থেকেই তিনি নিয়মিত পরিচর্যা শুরু করেছেন।
সব মিলিয়ে দিনাজপুরের আমবাগানে এখন আশাবাদের আবহ। আবহাওয়া সহায়ক থাকলে চলতি মৌসুমে জেলার আম উৎপাদনে নতুন রেকর্ড গড়ার সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0