বালুচিস্তানে সমন্বিত হামলা ও পাল্টা অভিযানে শতাধিক নিহত

বালুচিস্তানে সমন্বিত হামলা

Feb 1, 2026 - 21:54
Feb 1, 2026 - 21:56
 0  2
বালুচিস্তানে সমন্বিত হামলা ও পাল্টা অভিযানে শতাধিক নিহত
বালুচিস্তানে সমন্বিত হামলা ও পাল্টা অভিযানে শতাধিক নিহত

পাকিস্তানের বালুচিস্তান প্রদেশে একযোগে চালানো সশস্ত্র হামলা ও নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে দুই দিনে অন্তত একশ জনের বেশি মানুষের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, এসব ঘটনায় নিহতদের মধ্যে রয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্য, সরকারি কর্মকর্তা, সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য এবং বেসামরিক নাগরিক।

সরকারি ভাষ্য অনুযায়ী, কোয়েটাসহ প্রদেশের অন্তত বারটি শহরে সংঘটিত হামলা ও পরবর্তী অভিযানে ৩৭ জন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সদস্য এবং ১০ জন সরকারি কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। তবে সেনাবাহিনীর দাবি, শুধু শনিবারের অভিযানে নিহত হয়েছে ৬৭ জন। নিরাপত্তা সূত্রগুলো জানাচ্ছে, শাবান ও পাঞ্জগুর এলাকায় চালানো অভিযানে আরও ৪১ জন নিহত হওয়ার ফলে মোট প্রাণহানির সংখ্যা ১০৮ জনে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, বেসরকারি তথ্য অনুযায়ী, শনিবারের সহিংসতায় অন্তত ১৮ জন বেসামরিক নাগরিক প্রাণ হারিয়েছেন। যদিও এই তথ্য এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি।

রাজনৈতিক নেতা ও পরিবারের ওপর প্রাণঘাতী হামলা

স্থানীয় পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, খারান এলাকায় মালাজাই ন্যাশনাল অ্যালায়েন্সের চেয়ারম্যান মীর শাহিদ গুলের বাসভবনে হামলায় তিনি নিজেসহ অন্তত সাতজন নিহত হন। হামলার সময় তার বাড়ি ও গাড়িতে অগ্নিসংযোগ করা হয়।

নিরাপত্তা সূত্রগুলো আরও জানিয়েছে, খুজদারে একটি পরিবারের ১১ জন সদস্য নিহত হয়েছেন, যাদের মধ্যে তিনজন নারী ও তিনটি শিশু রয়েছে। এই ঘটনায় স্থানীয় পর্যায়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

কোয়েটাসহ একাধিক শহরে হামলা

সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, রাজধানী কোয়েটা ছাড়াও মাসতুং, পাসনি, গোয়াদার, খারান, নশকি ও মাখসহ বিভিন্ন শহরে একযোগে হামলার চেষ্টা চালানো হয়, যার অনেকগুলো প্রতিহত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এসব অভিযানের বিস্তারিত তথ্য এখনো প্রকাশ করা হয়নি।

প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, শনিবার ভোরে কোয়েটার রেড জোনসংলগ্ন এলাকায় একের পর এক বিস্ফোরণ ও গোলাগুলির শব্দ শোনা যায়। সারিয়াব সড়ক, হাজারগানজি ও ইধি চক এলাকায় হামলার পর পুরো রেড জোন বন্ধ করে দেওয়া হয়। হাসপাতালে জারি করা হয় জরুরি অবস্থা।

কারাগার ভাঙচুর ও জিম্মি সংকট

মাসতুংয়ে কারাগারে হামলার ঘটনায় অন্তত ২৭ জন বন্দি পালিয়ে গেছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নশকিতে ডেপুটি কমিশনারের বাসভবন থেকে জিম্মিদের তুলে নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানা গেছে।

পাসনি জেলায় একটি সরকারি নিরাপত্তা কার্যালয়ে নারী আত্মঘাতী হামলাকারীর বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। সেখানে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণে কাজ চলছে।

হামলার দায় স্বীকার বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠীর

নিষিদ্ধ ঘোষিত একটি বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন এক বিবৃতিতে এসব হামলার দায় স্বীকার করেছে। সংগঠনটি জানিয়েছে, এটি তাদের ঘোষিত অভিযানের দ্বিতীয় ধাপ। এর আগেও গত বছর একই ধরনের সমন্বিত হামলার ঘটনা ঘটেছিল।

কোয়েটায় হামলা কেন গুরুত্বপূর্ণ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বালুচিস্তানে সহিংসতা নতুন নয়, তবে রাজধানী কোয়েটার ভেতরে এভাবে সংগঠিত হামলা নজিরবিহীন। সাধারণভাবে কোয়েটাকে একটি তুলনামূলক নিরাপদ শহর হিসেবে ধরা হয়, যেখানে একাধিক নিরাপত্তা বলয়, চেকপোস্ট ও নজরদারি ব্যবস্থা রয়েছে।

এই হামলাগুলো নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতা নাকি গোয়েন্দা ব্যর্থতার ইঙ্গিত—তা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করেন, এত বড় ও বিস্তৃত শহরে শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সবসময় সম্ভব নয়।

তাদের মতে, হামলাকারীরা মূলত সরকারি প্রশাসন ও নিরাপত্তা স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে, যা একটি স্পষ্ট রাজনৈতিক বার্তা বহন করে।

রাজনৈতিক সমাধানের প্রয়োজনীয়তা

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের মতে, বালুচিস্তানের সংকট কেবল নিরাপত্তা অভিযান দিয়ে সমাধান করা সম্ভব নয়। তাদের ভাষায়, দীর্ঘমেয়াদি স্থিতিশীলতার জন্য রাজনৈতিক সংলাপ, আস্থা তৈরি এবং স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জন অপরিহার্য।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সামরিক পদক্ষেপ হওয়া উচিত শেষ বিকল্প; এর আগে প্রয়োজন সামাজিক ও রাজনৈতিক উদ্যোগ, যা সংঘাতের মূল কারণগুলো মোকাবিলা করতে পারে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0