ইরানে বিমান হামলা, নিহত চার: যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলকে দায়ী তেহরান
উত্তেজনা বাড়ছে মধ্যপ্রাচ্যে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনার পারদ চড়িয়েছে ইরানে সাম্প্রতিক বিমান হামলার ঘটনা। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পার্বত্য এলাকায় সংঘটিত এই হামলায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ইরানি কর্তৃপক্ষ। আহত হয়েছেন আরও কয়েকজন।
ইরানের আধা-সরকারি বার্তা সংস্থা তাসনিমের খবরে জানানো হয়, কোহগিলুয়েহ ও বোয়ের-আহমাদ প্রদেশের দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে এই হামলার ঘটনা ঘটে। প্রথমদিকে তিনজন নিহতের তথ্য দেওয়া হলেও পরে প্রাদেশিক ডেপুটি গভর্নর ফাত্তাহ মোহাম্মদী জানান, মৃতের সংখ্যা বেড়ে চারজন হয়েছে।
এই হামলার জন্য সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল-কে দায়ী করেছে ইরান। তবে এ বিষয়ে এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েল।
ইরানের অভিযোগ, এটি ছিল লক্ষ্যভিত্তিক সামরিক হামলা। যদিও ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে এ নিয়ে নিশ্চুপ অবস্থান পরিস্থিতিকে আরও ধোঁয়াশাপূর্ণ করে তুলেছে।
ঘটনার সময় ওই অঞ্চলে একটি মার্কিন যুদ্ধবিমানের ক্রু নিখোঁজ ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছিল। এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্র উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে। পরে রোববার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, নিখোঁজ ক্রুকে নিরাপদ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এই অভিযানে “কয়েক ডজন যুদ্ধবিমান” অংশ নেয়, তবে কোনো মার্কিন সেনা হতাহত হয়নি।
তবে হামলার সঙ্গে এই উদ্ধার অভিযানের সরাসরি কোনো সম্পর্ক রয়েছে কি না, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
এদিকে পরিস্থিতি আরও জটিল করে তুলেছে ড্রোন ভূপাতিতের ঘটনা। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোর (আইআরজিসি) দাবি করেছে, তারা একটি মার্কিন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করেছে।
ইরানি গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজ ক্রুর সন্ধান পেতে এই ড্রোনটি ব্যবহার করা হচ্ছিল। ফার্স নিউজ এজেন্সির বরাতে আইআরজিসির জনসংযোগ দপ্তর জানায়, দক্ষিণাঞ্চলীয় ইসফাহান প্রদেশে ড্রোনটি ধ্বংস করা হয়।
তবে ড্রোন ভূপাতিত হওয়ার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, সাম্প্রতিক এই ঘটনাগুলো মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চলে দীর্ঘদিনের উত্তেজনারই ধারাবাহিকতা। বিশেষ করে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ছায়াযুদ্ধ, এবং যুক্তরাষ্ট্রের কৌশলগত সম্পৃক্ততা পরিস্থিতিকে ক্রমেই জটিল করে তুলছে।
ইরান দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ করে আসছে যে, তার সামরিক ও পারমাণবিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র গোপন বা প্রত্যক্ষ হামলা চালিয়ে আসছে। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা দাবি করে, ইরানের সামরিক কার্যক্রম আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য হুমকি।
ঘটনার পর সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, কয়েকজন ব্যক্তি একটি মার্কিন ‘ব্ল্যাক হক’ হেলিকপ্টারের দিকে গুলি ছুড়ছেন। যদিও এসব ভিডিওর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি, তবুও তা পরিস্থিতির উত্তেজনা ও অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
বর্তমান পরিস্থিতি বড় ধরনের সামরিক সংঘাতে রূপ নিতে পারে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে। কূটনৈতিক মহল মনে করছে, দ্রুত সংযম না দেখালে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হতে পারে, যার প্রভাব পড়তে পারে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে।
সব মিলিয়ে, ইরানে বিমান হামলা, ড্রোন ভূপাতিত এবং উদ্ধার অভিযান—এই তিনটি ঘটনাই এখন একে অপরের সঙ্গে জড়িয়ে একটি জটিল নিরাপত্তা সংকট তৈরি করেছে। পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেদিকেই নজর আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0