ইরানকে চাপে রাখতে নতুন কৌশল: বাণিজ্যিক শুল্কের হুমকিতে ট্রাম্প

অর্থনৈতিক চাপ বাড়িয়ে পারমাণবিক সমঝোতার পথে টানতে চায় ওয়াশিংটন

Feb 7, 2026 - 13:00
 0  3
ইরানকে চাপে রাখতে নতুন কৌশল: বাণিজ্যিক শুল্কের হুমকিতে ট্রাম্প
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি এবং ডোনাল্ড ট্রাম্প/ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেক্সঃ 

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নির্বাহী আদেশ এবং তার পরবর্তী বক্তব্য আবারও ইরানকেন্দ্রিক বৈশ্বিক রাজনীতিতে উত্তাপ ছড়িয়েছে। ইরানের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক রাখা দেশগুলোর ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়ে ওয়াশিংটন মূলত তেহরানকে কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে আরও কোণঠাসা করার কৌশল নিয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

নির্বাহী আদেশে নির্দিষ্ট হারে শুল্কের কথা উল্লেখ না থাকলেও ২৫ শতাংশ শুল্কের উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয়—যুক্তরাষ্ট্র প্রয়োজনে কঠোর বাণিজ্যিক ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত। আদেশ অনুযায়ী, ইরান থেকে প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষভাবে পণ্য কিংবা সেবা সংগ্রহকারী কোনো দেশের পণ্য যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি হলে তার ওপর এই শুল্ক আরোপ করা হতে পারে। ফলে বিষয়টি শুধু ইরান নয়, বরং চীন, ভারত, তুরস্ক, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরাকের মতো দেশগুলোকেও প্রভাবিত করতে পারে, যারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার।

এমন এক সময়ে এই সিদ্ধান্তের ইঙ্গিত এলো, যখন ওমানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিনের উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং সামরিক শক্তি প্রদর্শনের পর এই আলোচনাকে অনেকেই সংঘাত এড়ানোর সম্ভাব্য পথ হিসেবে দেখছিলেন। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে স্পষ্ট—আলোচনা চললেও চাপের কৌশল থেকে সরে আসার কোনো লক্ষণ নেই।

এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে ট্রাম্প আবারও জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। একই সঙ্গে তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, আলোচনায় ব্যর্থতা এলে তার পরিণতি ‘খুবই খারাপ’ হতে পারে। এই বক্তব্য ইঙ্গিত করে যে, যুক্তরাষ্ট্র কূটনীতি ও হুমকি—দুই পথই একসঙ্গে ব্যবহার করছে।

অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে আলোচনার সুর তুলনামূলকভাবে সংযত। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আলোচনাকে ‘ইতিবাচক সূচনা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। এতে বোঝা যায়, তেহরান এখনো কূটনৈতিক সমাধানের পথ পুরোপুরি বন্ধ করতে চায় না। তবে ইরান বারবারই দাবি করে আসছে, তাদের পারমাণবিক কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ এবং অস্ত্র তৈরির অভিযোগ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

এই প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রের বাড়তি সামরিক উপস্থিতিও উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। সম্প্রতি ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংসতার অভিযোগ এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতির প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ওই অঞ্চলে নৌবহর পাঠিয়েছে। যদিও প্রকৃত ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নিয়ে তথ্যের স্বচ্ছতা নেই, তবুও পরিস্থিতি যে অস্থিতিশীল, তা স্পষ্ট।

সব মিলিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বর্তমান কৌশল একদিকে ইরানকে আলোচনার টেবিলে রাখতে চায়, অন্যদিকে অর্থনৈতিক চাপ ও সামরিক হুমকির মাধ্যমে তাদের অবস্থান দুর্বল করতে চাইছে। এই দ্বিমুখী নীতি কতটা কার্যকর হবে, তা নির্ভর করছে আসন্ন আলোচনার অগ্রগতি এবং ইরান কীভাবে এই চাপের জবাব দেয় তার ওপর। তবে এটুকু পরিষ্কার, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনার মেঘ এখনো কাটেনি—বরং নতুন করে ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কাই বেশি।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0