সৌদিতে নতুন করে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র

সৌদিতে নতুন করে হামলা

Mar 27, 2026 - 16:27
Mar 27, 2026 - 16:36
 0  4
সৌদিতে নতুন করে হামলা, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তীব্র
সৌদির একটি এলাকায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় ক্ষয়ক্ষতি। ছবি: সংগৃহীত

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরব-এর রাজধানী রিয়াদকে লক্ষ্য করে একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানা যায়, শুক্রবার ছয়টি ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করা হয়, যার মধ্যে অন্তত দুটি আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ভূপাতিত করা সম্ভব হয়েছে।

সৌদি প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্রগুলো জনবসতিহীন এলাকা অথবা উপসাগরীয় জলসীমায় গিয়ে পড়েছে, ফলে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা আপাতত কম। তবে এই হামলাকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

এদিকে ইরানকে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার জন্য দেওয়া সময়সীমা আরও ১০ দিন বাড়িয়েছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি জানান, আলোচনায় কিছু অগ্রগতি হওয়ায় এই সময় বাড়ানো হয়েছে। নতুন সময়সীমা অনুযায়ী আগামী ৬ এপ্রিলের মধ্যে বিষয়টির সমাধান প্রত্যাশা করছে যুক্তরাষ্ট্র।

নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানের অনুরোধেই জ্বালানি স্থাপনায় সম্ভাব্য হামলার সময়সীমা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখা হয়েছে। তার দাবি, বিভিন্ন সমালোচনা সত্ত্বেও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা এগিয়ে চলছে।

তবে একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক প্রস্তুতিও জোরদার করছে। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে অতিরিক্ত প্রায় ১০ হাজার মার্কিন স্থলসেনা পাঠানোর পরিকল্পনা বিবেচনায় রয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের লক্ষ্য একদিকে যেমন তেহরানের ওপর সামরিক চাপ বাড়ানো, অন্যদিকে সম্ভাব্য আলোচনায় কৌশলগত সুবিধা অর্জন করা।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে এই সংকট বিশ্ব অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ জ্বালানি এই নৌপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। ফলে সেখানে অস্থিতিশীলতা তৈরি হলে তেলবাজারে অস্থিরতা ও বৈশ্বিক জ্বালানি দামের ঊর্ধ্বগতি অবশ্যম্ভাবী।

অন্যদিকে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর মধ্যে উত্তেজনা বাড়তে থাকায় সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। সাম্প্রতিক হামলাগুলো সরাসরি বড় আকারের যুদ্ধের পূর্বাভাস না দিলেও, পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

সামগ্রিকভাবে, কূটনৈতিক আলোচনা ও সামরিক শক্তি প্রদর্শন—এই দুই পথেই এগোচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। তবে এই দ্বিমুখী কৌশল শেষ পর্যন্ত স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে, নাকি সংঘাত আরও বাড়াবে—তা এখনো অনিশ্চিত রয়ে গেছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 1
Wow Wow 0