ওয়াসা বোর্ডে সদস্য নিয়োগ, বিএফইউজে প্রতিনিধি নির্বাচনে মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
ওয়াসা বোর্ডে বিএফইউজে প্রতিনিধি নিয়োগ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগ
ঢাকা, ১৮ আগস্ট: ঢাকা ওয়াসা বোর্ডে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) প্রতিনিধি হিসেবে মো. শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে নিয়োগ দেওয়াকে কেন্দ্র করে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে, বিএফইউজের নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির কোনো মনোনয়ন, সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন ছাড়াই তাকে সংগঠনটির প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদ একাত্তর টেলিভিশনের হেড অব নিউজ হিসেবে কর্মরত। একই সঙ্গে তাকে তথ্য অধিদপ্তরের এক্রিডিটেশন কার্ড কমিটির সদস্য হিসেবেও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে।
গত ৩০ জুলাই স্থানীয় সরকার বিভাগের পানি সরবরাহ-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডে বিএফইউজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রজ্ঞাপনে ‘পানি সরবরাহ ও পয়ঃনিষ্কাশন কর্তৃপক্ষ (সংশোধন) আইন, ২০২৬’-এর ধারা ৬(১) উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে বিএফইউজের নির্বাচিত নেতৃত্বের দাবি, শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে ঢাকা ওয়াসা বোর্ডে সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে মনোনয়ন দেওয়ার বিষয়ে তাদের কোনো সিদ্ধান্ত বা অনুমোদন নেই। সংগঠনের সভাপতি ও মহাসচিবসহ শীর্ষ নেতৃত্বও এ নিয়োগের বিষয়ে অবগত ছিলেন না বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
সংগঠনের অনুমোদন ছাড়াই ‘প্রতিনিধি’
বিএফইউজের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. এরফানুল হক নাহিদ গত ১৭ আগস্ট স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ দিয়ে বিষয়টি তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
অভিযোগে তিনি বলেন, বিএফইউজে একটি নিবন্ধিত সংগঠন এবং বর্তমানে এর ১৯ সদস্যের নির্বাচিত নির্বাহী কমিটি রয়েছে। ঢাকা ওয়াসা বোর্ডে বিএফইউজের প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে এতদিন সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের সিদ্ধান্তই অনুসরণ করা হয়েছে। অথচ এবার সেই প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
এতে প্রশ্ন উঠেছে—বিএফইউজের প্রতিনিধি হিসেবে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদের নাম মন্ত্রণালয়ের কাছে কে প্রস্তাব করেছেন? কোন নথির ভিত্তিতে তাকে সংগঠনটির প্রতিনিধি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে? নিয়োগের আগে মন্ত্রণালয় কি বিএফইউজের নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বিষয়টি যাচাই করেছিল?
নিয়োগের ভিত্তি নিয়ে প্রশ্ন
সরকারি প্রজ্ঞাপনে আইনের ধারা উল্লেখ করা হলেও সংশ্লিষ্ট সংগঠনের প্রতিনিধি মনোনয়নের ক্ষেত্রে সংগঠনের অনুমোদিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয়েছিল কি না, সেটিই এখন মূল প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিএফইউজের অভিযোগ সত্য হলে নিয়োগ-সংক্রান্ত পুরো ফাইল, প্রস্তাব, সুপারিশপত্র এবং শফিক আহমেদকে বিএফইউজের প্রতিনিধি হিসেবে বিবেচনা করার নথি প্রকাশ করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
একই সঙ্গে মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে যোগাযোগ করে মনোনয়ন যাচাই করা হয়েছিল কি না, সেটিও স্পষ্ট হওয়া দরকার।
ঢাকা ওয়াসা বোর্ডে বিএফইউজের প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগের পাশাপাশি শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদকে এক্রিডিটেশন কার্ড কমিটির সদস্য হিসেবেও রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। ফলে বিভিন্ন সরকারি কমিটি ও প্রতিষ্ঠানে তার প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
একটি সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্ব যদি দাবি করে যে তারা কাউকে মনোনয়ন দেয়নি, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে কীভাবে সেই সংগঠনের প্রতিনিধি হিসেবে সরকারি কোনো পদে অন্তর্ভুক্ত করা হলো—এ প্রশ্নের উত্তর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকেই দিতে হবে।
‘জালিয়াতি’র অভিযোগ তদন্তের দাবি
বিএফইউজের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে, সংগঠনের নির্বাহী কমিটির বাইরে কাউকে প্রতিনিধি হিসেবে নিয়োগ দেওয়ার নজির নেই। তাদের আশঙ্কা, বিভ্রান্তিকর তথ্য কিংবা জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে কেউ ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিল করে থাকতে পারেন।
তবে জালিয়াতির অভিযোগটি এখনো অভিযোগের পর্যায়েই রয়েছে। এর সত্যতা নির্ধারণে মন্ত্রণালয়ের নিয়োগ-সংক্রান্ত নথি, বিএফইউজের মনোনয়নপত্র এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন।
তদন্তে স্পষ্ট হওয়া দরকার—শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদের নাম কে প্রস্তাব করেছিলেন, বিএফইউজের কোন পর্যায়ের অনুমোদন দেখানো হয়েছিল, মন্ত্রণালয় সেই অনুমোদন যাচাই করেছিল কি না এবং নিয়োগের আগে সংগঠনের নির্বাচিত নেতৃত্বের সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করা হয়েছিল কি না।
বিএফইউজের পক্ষ থেকে ৩০ জুলাইয়ের নিয়োগ প্রজ্ঞাপন বাতিল করে সংগঠনের নির্বাচিত নির্বাহী কমিটির মাধ্যমে নিয়ম মেনে নতুন প্রতিনিধি নিয়োগের দাবি জানানো হয়েছে।
ফলে এখন স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সামনে দুটি প্রধান প্রশ্ন—শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদের নিয়োগের ভিত্তি কী এবং বিএফইউজের নিজস্ব মনোনয়ন প্রক্রিয়া কেন অনুসরণ করা হয়নি।
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, বিএফইউজের নির্বাচিত নেতৃত্ব যদি কাউকে মনোনয়ন না দিয়ে থাকে, তাহলে তিনি কীভাবে সংগঠনটির প্রতিনিধি হলেন? আর মন্ত্রণালয় যদি সংগঠনের অনুমোদন যাচাই না করেই তাকে নিয়োগ দিয়ে থাকে, তাহলে এই প্রক্রিয়ার দায় নেবে কে?
ঢাকা ওয়াসা বোর্ডের সদস্য হিসেবে শফিকুল ইসলাম ওরফে শফিক আহমেদের প্রতিনিধিত্বের ভিত্তি স্বচ্ছভাবে ব্যাখ্যা করার দাবি উঠেছে। সংশ্লিষ্ট নথি প্রকাশ এবং নিরপেক্ষ তদন্ত ছাড়া এ বিতর্কের অবসান হওয়ার সম্ভাবনা কম।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0