কোরবানির পশু নির্বাচন: ইসলামের বিধান, শর্ত ও সতর্কতা

কোন পশু কোরবানি দেওয়া যাবে, আর কোনগুলো বৈধ হবে না

May 23, 2026 - 19:42
 0  3
কোরবানির পশু নির্বাচন: ইসলামের বিধান, শর্ত ও সতর্কতা
সংগৃহীত ছবি

ঈদুল আযহা মুসলিম বিশ্বের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব, যা বাংলাদেশে “কোরবানির ঈদ” নামে বেশি পরিচিত। প্রতি বছর আরবি মাস জিলহজ্জের ১০ তারিখ থেকে শুরু করে পরবর্তী তিন দিনের মধ্যে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের উদ্দেশ্যে মুসলমানরা পশু কোরবানি করে থাকেন।

ইসলামি বিধান অনুযায়ী, কোরবানি ফরজ না হলেও এটি সামর্থ্যবান মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব। অর্থাৎ, যাদের কাছে নির্ধারিত পরিমাণ সম্পদ রয়েছে—যেমন সাড়ে সাত ভরি স্বর্ণ, সাড়ে বায়ান্ন ভরি রূপা বা সমমূল্যের সম্পদ—তাদের জন্য কোরবানি করা আবশ্যক বিবেচিত হয়।

কোরবানির পেছনের ইতিহাস ও তাৎপর্য

ইসলামের ইতিহাসে কোরবানির সূত্রপাত হযরত ইব্রাহিম (আ.)-এর সেই ত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে, যখন তিনি আল্লাহর নির্দেশে প্রিয় সন্তানকে কোরবানি দিতে উদ্যত হন। আল্লাহ তাঁর আনুগত্যের পরীক্ষায় সন্তুষ্ট হয়ে সন্তানের পরিবর্তে একটি দুম্বা কোরবানি কবুল করেন। সেই স্মৃতিতেই কোরবানির এই বিধান চালু রয়েছে।

হাদিস থেকে জানা যায়, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (সা.) মদিনায় অবস্থানকালে নিয়মিত কোরবানি করেছেন এবং তিনি সাধারণত সুস্থ, মোটা ও আকর্ষণীয় পশু বেছে নিতেন। এমনকি তিনি দু’টি দুম্বা কোরবানি করতেন—একটি নিজের পক্ষ থেকে এবং অন্যটি উম্মতের পক্ষ থেকে।

কোন পশু কোরবানির জন্য উপযুক্ত

ইসলামি শরিয়াহ অনুযায়ী ছয় ধরনের পশু দিয়ে কোরবানি করা বৈধ। এগুলো হলো—উট, গরু, মহিষ, ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা। বিভিন্ন দেশে এই পশুর মধ্যে পছন্দের ভিন্নতা দেখা গেলেও বাংলাদেশে গরু কোরবানির প্রচলন বেশি।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোরবানির পশু অবশ্যই হতে হবে—

  • সুস্থ, সবল ও তাজা
  • শারীরিকভাবে ত্রুটিমুক্ত
  • দেখতে সুন্দর ও মাংসল

বয়স সংক্রান্ত শর্ত

  • উট: কমপক্ষে ৫ বছর
  • গরু ও মহিষ: কমপক্ষে ২ বছর
  • ছাগল, ভেড়া ও দুম্বা: কমপক্ষে ১ বছর (বিশেষ ক্ষেত্রে ৬ মাস হলেও চলে, যদি দেখতে পূর্ণবয়স্ক মনে হয়)

যে পশু কোরবানির জন্য গ্রহণযোগ্য নয়

ইসলামি বিধান অনুযায়ী কিছু ত্রুটিযুক্ত পশু কোরবানি করা বৈধ নয়। যেমন—

  • অন্ধ বা দৃষ্টিশক্তি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত
  • খোঁড়া বা চলতে অক্ষম
  • গুরুতর অসুস্থ বা অত্যন্ত দুর্বল
  • কান, লেজ বা অঙ্গের বড় অংশ কাটা
  • দাঁতহীন বা শিং ভাঙা (গুরুতরভাবে)

এছাড়া যে পশু জবাইয়ের স্থান পর্যন্ত হেঁটে যেতে পারে না, সেটিও কোরবানির উপযুক্ত নয়।

কোরবানির মূল শিক্ষা

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, কোরবানির মূল উদ্দেশ্য শুধু পশু জবাই নয়; বরং আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, ত্যাগ এবং আন্তরিকতা প্রকাশ। তাই পশু নির্বাচনেও এই মানসিকতা প্রতিফলিত হওয়া জরুরি।

সব মিলিয়ে বলা যায়, কোরবানি একটি গভীর তাৎপর্যপূর্ণ ইবাদত, যেখানে বাহ্যিক নিয়ম মেনে চলার পাশাপাশি অন্তরের নিষ্ঠা ও তাকওয়াই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব বহন করে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0