“বিদ্বেষ: ইসলামের চোখে জঘন্যতম অন্তরের ক্ষতিকর ব্যাধি

“বিদ্বেষ:

Feb 14, 2026 - 15:11
 0  7
“বিদ্বেষ: ইসলামের চোখে জঘন্যতম অন্তরের ক্ষতিকর ব্যাধি

বিদ্বেষ: মানুষের অন্তরের ক্ষতিকর ব্যাধি ও ইসলামের দৃষ্টিতে নিন্দিত আচরণ

ইসলামের আলোকে বিদ্বেষকে সবচেয়ে ঘৃণ্য ও নিন্দিত আচরণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এটি মানুষের অন্তরে এমন একটি ব্যাধি সৃষ্টি করে যা সত্যকেও ঢেকে রাখে। যিনি বিদ্বেষ পোষণ করেন, তিনি অন্যের ভালো গুণ, আন্তরিকতা ও সৎ কাজে চোখ বুজে থাকেন। ফলে সে সহজেই অন্যকে প্রত্যাখ্যান করতে বা কষ্ট দিতে পিছপা হয় না।

ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, মহানবী মুহাম্মাদ (সা.)-এর প্রতি কাফির, ইহুদি ও মোনাফেকদের বিদ্বেষই তাদেরকে সত্য স্বীকার করতে বাধা দিয়েছে। আল্লাহর অসংখ্য নিদর্শন ও নিয়ামত থাকা সত্ত্বেও তারা হেদায়েত গ্রহণে অনীহা প্রকাশ করেছে। পবিত্র কোরআনে এসেছে, ‘তারা অন্যায় ঔদ্ধত্যভরে নিদর্শনগুলো প্রত্যাখ্যান করল যদিও অন্তর বিশ্বাস করেছিল। দেখো, ফাসাদ সৃষ্টিকারীদের পরিণতি কেমন হয়েছিল।’ (সুরা: নামল, আয়াত:১৪)

ইহুদি ও মোনাফেকরা মহানবী (সা.)-এর চরিত্র ও সততার সঙ্গে পুরোপুরি পরিচিত ছিল। তবু তাদের বিদ্বেষের কারণে তাঁকে নবী হিসেবে স্বীকৃতি দেননি। তাদের বিদ্বেষের ফলে সামাজিক, অর্থনৈতিক ও শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়েছিল।

বৈজ্ঞানিকভাবে দেখা গেছে, বিদ্বেষ মানুষের মধ্যে ‘কনফারমেশন বায়াস’ বা confirmation bias সৃষ্টি করে। এতে মানুষ শুধুমাত্র নিজের বিশ্বাসের প্রতি সমর্থক প্রমাণ খোঁজে এবং বিপরীত প্রমাণ এড়িয়ে যায়। ফলে সত্যিকারের তথ্য থাকা সত্ত্বেও সে সেগুলো অস্বীকার করে।

রাসুল (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ মধ্য শাবানের রাতে (শবেবরাতে) সব সৃষ্টিকে ক্ষমা করেন, কেবল মুশরিক ও বিদ্বেষ পোষণকারী ব্যতীত। (ইবনে মাজাহ, হাদিস: ১৩৯০)

এই কারণে ইসলামে বিদ্বেষ পরিহার করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমাদের উচিত অহংকার ত্যাগ করে সত্যকে স্বীকার করা, মানবতার প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা এবং অন্তরের ক্ষতিকর আবেগগুলো দমন করা।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0