ভারতে আবারও মুসলিম নির্যাতন, প্রশাসন কি নীরব দর্শক?

অভিযুক্ত জামিনে মুক্ত

Feb 23, 2026 - 15:42
 0  3
ভারতে আবারও মুসলিম নির্যাতন, প্রশাসন কি নীরব দর্শক?
আব্দুল সালামকে মারার জন্য হাত তুলেছেন অভিযুক্ত অক্ষয় শর্মা - ভাইরাল ভিডিও থেকে

উত্তর প্রদেশের বদায়ুঁ জেলার সহসওয়ান থানা এলাকার বাসিন্দা ৫৬ বছর বয়সি আব্দুল সালাম অভিযোগ করেছেন, ধর্মীয় কটূক্তি করে তাকে ও তার দুই সঙ্গীকে প্রকাশ্যে মারধর করা হয়েছে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় চাঞ্চল্য তৈরি হয়। পুলিশ এক যুবককে গ্রেফতার করলেও তিনি জামিনে মুক্ত—এ নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন ভুক্তভোগীরা।

কী ঘটেছিল?

আব্দুল সালাম জানান, ১৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আরিফ ও জাভেদকে নিয়ে রুদায়ন এলাকার দিকে সাহায্য সংগ্রহে যাচ্ছিলেন। তাদের দাবি, পেছন থেকে এক যুবক এসে আধার কার্ড দেখতে চান এবং কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে ধর্ম নিয়ে কটূক্তি করে চড়-থাপ্পড় মারেন। সালামের ভাষ্য, “আমরা শান্তভাবে বসে ছিলাম। টুপি খুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়, চোর বলা হয়। পরে নিজেরাই ভিডিও করে ভাইরাল করে দেয়।”

ভাইরাল ফুটেজে দেখা যায়, এক যুবক তিন প্রবীণ ব্যক্তিকে আঘাত করছেন। ভিডিওর সত্যতা ও প্রেক্ষাপট যাচাই করছে পুলিশ।

মামলা ও পুলিশের অবস্থান

অভিযোগের ভিত্তিতে ১৯ ফেব্রুয়ারি ইসলামনগর থানা পুলিশ এফআইআর দায়ের করে এবং অক্ষয় শর্মা ওরফে ‘ছোট্টু’ নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। পরে তিনি আদালত থেকে জামিন পান।

স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তা সুনীল কুমার বলেন, “মামলা রুজু করে অভিযুক্তকে হেফাজতে পাঠানো হয়েছিল। তদন্ত চলছে, প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত ধারা যোগ করা হবে।” তবে আব্দুল সালামের অভিযোগ, ধর্মীয় বিদ্বেষ ও উসকানির বিষয়টি যথাযথ ধারায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি, ফলে দ্রুত জামিন হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রাথমিক এফআইআরে ভারতীয় দণ্ডবিধির আঘাত ও শান্তিভঙ্গ সংক্রান্ত ধারা যুক্ত করা হয়েছে। তদন্তে ধর্মীয় বিদ্বেষের উপাদান পাওয়া গেলে প্রাসঙ্গিক কঠোর ধারা সংযোজনের বিষয়টি বিবেচনা করা হবে।

অভিযুক্তের পরিচয় নিয়ে বিতর্ক

অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে, অভিযুক্ত নিজেকে একটি হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের কর্মী হিসেবে পরিচয় দেন। স্থানীয় সূত্রে দাবি, তিনি ‘গো-রক্ষা’ সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকতে পারেন। তবে সংগঠনটির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য মেলেনি। স্বাধীনভাবে তার সাংগঠনিক পরিচয় যাচাই করা যায়নি।

এলাকায় উত্তেজনা, নিরাপত্তা জোরদার

ঘটনার পর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে এবং গুজব ছড়ানো থেকে বিরত থাকতে অনুরোধ করা হয়েছে। সাইবার সেল ভাইরাল ভিডিওর উৎস ও সম্পাদনা হয়েছে কি না—তাও খতিয়ে দেখছে।

বৃহত্তর প্রেক্ষাপট

মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সালের পর থেকে ভারতে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা ও গণপিটুনির অভিযোগ বেড়েছে—যদিও কেন্দ্রীয় সরকার ও শাসক দল এ ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করে। বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক মাধ্যমে উত্তেজনামূলক কনটেন্ট দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় ঘটনার প্রভাবও বহুগুণ বেড়ে যায়।

আব্দুল সালাম বলেন, “আমরা ঝগড়া চাই না। কিন্তু ন্যায়বিচার চাই।” তদন্তের অগ্রগতি ও চার্জশিট দাখিলের ওপরই এখন নজর সবার।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0