চট্টগ্রামে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে নিহত শহীদ জামালের পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছে বিএনপি। দলটির উদ্যোগে তাঁর মেয়ে তানিয়া আক্তার রুমির বিয়ের সম্পূর্ণ ব্যয় বহন ও আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করা হয়েছে। একইসঙ্গে দরিদ্র ও মেধাবী শিক্ষার্থী এবং অসুস্থদের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও দেওয়া হয়েছে, যা মানবিক উদ্যোগ হিসেবে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশংসিত হয়েছে।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে শহীদ জামালের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর পক্ষ থেকে এই সহায়তা প্রদান করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতৃবৃন্দ জানান, গণআন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো দলটির চলমান উদ্যোগের অংশ।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, যিনি শহীদ জামালের পরিবারের হাতে সহায়তার অর্থ তুলে দেন। এসময় অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন শহীদ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের সার্বিক খোঁজখবর নেন। তিনি বলেন, “এই ধরনের সহায়তা শুধু আর্থিক নয়, বরং একটি পরিবারের পাশে থাকার প্রতীক।”
এদিকে একই অনুষ্ঠানে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ শিক্ষার্থী জপেল চাকমাকে শুভেচ্ছা জানানো হয় এবং তার জন্য মাসিক শিক্ষাবৃত্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। আয়োজকরা জানান, দেশের মেধাবী কিন্তু আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের সহায়তা করা তাদের অগ্রাধিকারমূলক কর্মসূচির একটি অংশ।
এছাড়া ব্লাড ক্যান্সারে আক্রান্ত মার্জিয়া আক্তার মাইশার চিকিৎসার জন্য আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়। উপস্থিত নেতারা জানান, মানবিক সহায়তার এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি। এতে আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা মো. আবুল কাশেম, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব মোকছেদুল মোমিন মিথুন এবং সদস্য মাসুদ রানা লিটনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বক্তারা বলেন, ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে গণতান্ত্রিক আন্দোলনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার, শহীদদের স্বজন এবং অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। বিশেষ করে সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের পরিবারকে সহায়তা এবং দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি চালু রাখা এই উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
স্থানীয়রা মনে করছেন, এ ধরনের সামাজিক ও মানবিক কার্যক্রম রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।