যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত

কৃষক ও অর্থনীতিবিদদের মধ্যে উদ্বেগ

Feb 16, 2026 - 14:56
 0  3
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে চাপে ভারত
সংগৃহীত ছবি

ভারত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে। বিশেষজ্ঞ ও কৃষক সংগঠনগুলোর উদ্বেগ, কারণ চুক্তি অনুযায়ী সস্তা মার্কিন পণ্য আমদানি হলে দেশীয় উৎপাদকদের ক্ষতি হতে পারে।

মুম্বাই থেকে এএফপি জানায়, চলতি মাসে ঘোষিত চুক্তিটি ভারতের প্রভাবশালী কৃষক সংগঠনগুলোর মধ্যে বিশেষভাবে উদ্বেগ তৈরি করেছে। ভারতের প্রায় ৭০ কোটি মানুষ কৃষির সঙ্গে যুক্ত, তাই তারা সরাসরি চুক্তির প্রভাবের মুখোমুখি হতে পারেন।

চুক্তির বিস্তারিত এখনো প্রকাশ করা হয়নি; কেবল একটি যৌথ বিবৃতি এবং হোয়াইট হাউসের তথ্যপত্র প্রকাশিত হয়েছে। নয়াদিল্লি জানিয়েছে, মার্চের শেষ নাগাদ একটি অন্তর্বর্তী চুক্তি চূড়ান্ত হতে পারে।

বাণিজ্য বিশেষজ্ঞ অভিজিৎ দাস এএফপিকে বলেছেন, “ট্রাম্পের প্রশাসনের সময়ে কোনো কিছুই নিশ্চিত নয়। চুক্তি স্বাক্ষরিত হলেও তা টিকবে কি না, তা মূলত প্রশাসনের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে।”

চুক্তিতে সবচেয়ে বিতর্কিত বিষয় হলো ভারতের ৫ বছরের মধ্যে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার ইচ্ছার প্রতিশ্রুতি। অথচ গত অর্থবছরে ভারতের আমদানি মাত্র ৪৫ বিলিয়ন ডলার। নয়াদিল্লিভিত্তিক থিংক ট্যাংক গ্লোবাল ট্রেড রিসার্চ ইনিশিয়েটিভের অজয় শ্রীবাস্তব এই লক্ষ্যমাত্রাকে “অবাস্তব” হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

শ্রীবাস্তব জানান, এই লক্ষ্য অর্জনের বড় অংশ বিমান কেনার সঙ্গে যুক্ত। বেসরকারি বিমান সংস্থাগুলো অতিরিক্ত বোয়িং বিমান কিনলেও পাঁচ বছরে ২০০টি বিমানের খরচ আনুমানিক ৬০ বিলিয়ন ডলার, যা ৫০০ বিলিয়ন ডলারের লক্ষ্য পূরণের জন্য যথেষ্ট নয়।

অন্যদিকে কিছু অর্থনীতিবিদ মনে করছেন, লক্ষ্যকে ‘ইচ্ছা’ হিসেবে নির্ধারণ করা ভারতের ঝুঁকি কিছুটা কমিয়েছে। ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের শিভান ট্যান্ডন বলেন, “লক্ষ্য বাধ্যবাধকতায় পরিণত না হওয়ায় চুক্তি ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা কম।”

চুক্তির আরেকটি বিতর্কিত বিষয় হলো, ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধে সম্মত হয়েছে বলে ওয়াশিংটনের দাবি। তবে যৌথ বিবৃতিতে এমন কোনো প্রতিশ্রুতি নেই এবং ভারত সরকারও বিষয়টি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি। ভারতের সরকারি অবস্থান অনুযায়ী, জ্বালানি নীতি জাতীয় স্বার্থনির্ভর এবং বিভিন্ন উৎস থেকে অপরিশোধিত তেল আমদানির ওপর নির্ভর করে।

২০২৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে ভারত দৈনিক ২০ লাখ ব্যারেলের বেশি রুশ তেল আমদানি করলেও জানুয়ারিতে তা কমে ১১ লাখ ব্যারেল নেমেছে। রাশিয়ার রোজনেফট মালিকানাধীন মুম্বাইভিত্তিক নায়ারা এনার্জি আংশিকভাবে প্রতি দিন প্রায় ৪ লাখ ব্যারেল তেল কেনার পরিকল্পনা অব্যাহত রাখছে।

বিশ্লেষকেরা বলছেন, চুক্তি এখনো “ভঙ্গুর এবং রাজনৈতিকভাবে বিতর্কিত।” তাই ভারতের প্রবৃদ্ধি পূর্বাভাসে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আনার মতো স্থিতিশীলতা এখনো তৈরি হয়নি।

সার্বিকভাবে, চুক্তিটি ভারতীয় অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও, কৃষক ও উৎপাদন ক্ষেত্রের জন্য সম্ভাব্য প্রভাব এবং জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সমালোচনার ঝড় তৈরি হয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0