যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে অবস্থিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প–এর ব্যক্তিগত বাসভবন Mar-a-Lago–এ এক ব্যক্তি অস্ত্রসহ অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টা করলে তাকে গুলি করে হত্যা করেছে United States Secret Service। রোববার ভোরে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
সিক্রেট সার্ভিস জানায়, সন্দেহভাজন ব্যক্তি মার-এ-লাগোর সুরক্ষিত সীমানা অতিক্রম করে ভেতরে ঢুকে পড়েন। নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা তাকে থামার নির্দেশ দিলে তিনি তা অমান্য করেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গুলি চালানো হয়। ঘটনায় নিরাপত্তা বাহিনীর কোনো সদস্য হতাহত হননি।
ঘটনার সময় ট্রাম্প মার-এ-লাগোতে ছিলেন না; তিনি ওয়াশিংটন ডিসিতে অবস্থান করছিলেন বলে নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ।
নিহত যুবকের নাম অস্টিন টি মার্টিন (২৬)। তিনি উত্তর ক্যারোলিনার ক্যামেরন এলাকার বাসিন্দা ছিলেন বলে জানিয়েছে মার্কিন গণমাধ্যম। সন্দেহভাজনের কাছ থেকে একটি শটগান ও একটি জ্বালানিভর্তি পাত্র উদ্ধার করা হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তিনি উত্তর দিকের ফটক দিয়ে প্রবেশের চেষ্টা করেছিলেন।
পাম বিচ কাউন্টির শেরিফ রিক ব্র্যাডশ এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, নিরাপত্তা বাহিনী প্রথমে তাকে হাতে থাকা অস্ত্র ও জ্বালানির পাত্র ফেলে দিতে নির্দেশ দেয়। তিনি জ্বালানির পাত্র নামালেও শটগান সামনে তাক করলে সিক্রেট সার্ভিসের এজেন্টরা গুলি চালাতে বাধ্য হন। ঘটনাস্থলে উপস্থিত এজেন্টদের শরীরে বডি ক্যামেরা সংযুক্ত ছিল, ফলে পুরো ঘটনা রেকর্ড হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে Federal Bureau of Investigation (এফবিআই)। সন্দেহভাজনের আগের কোনো অপরাধমূলক রেকর্ড আছে কি না, অস্ত্রটি কোথা থেকে কেনা হয়েছে এবং তার উদ্দেশ্য কী ছিল—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় পুলিশ জানিয়েছে, নিহতের ব্যক্তিগত তথ্য ও প্রাথমিক তদন্তের উপাত্ত এফবিআইয়ের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
সিক্রেট সার্ভিসের মুখপাত্র অ্যান্থনি গুগলিয়েলমি সামাজিক মাধ্যমে এক বার্তায় জানান, মার-এ-লাগো একটি উচ্চ-নিরাপত্তা বলয়ের আওতাধীন এলাকা। সেখানে দুই স্তরের নিরাপত্তা ব্যবস্থা কার্যকর রয়েছে—বাইরের অংশে স্থানীয় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং ভেতরে সিক্রেট সার্ভিসের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করেন। প্রবেশপথে দর্শনার্থীদের দেহ তল্লাশি, যানবাহন পরীক্ষা এবং প্রশিক্ষিত কুকুরের মাধ্যমে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে পেনসিলভানিয়ায় এক নির্বাচনি জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প হত্যাচেষ্টার শিকার হয়েছিলেন। সে সময় বন্দুকধারী থমাস ম্যাথিউ ক্রুকস নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে নিহত হন। সাম্প্রতিক এই ঘটনাকে ঘিরে ট্রাম্পের নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও কড়াকড়ি আরোপের আলোচনা শুরু হয়েছে।
মার-এ-লাগোতে সশস্ত্র অনুপ্রবেশের এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ঘটনার প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে চূড়ান্ত মন্তব্য করা থেকে বিরত রয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।