ইরানে হামলার দাবি ইসরায়েলের, তেহরানে বিস্ফোরণ
তিন দেশের আকাশসীমা বন্ধ, ট্রাম্পের ‘বড় যুদ্ধাভিযান’ ঘোষণা
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে তীব্র উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে ইরান–ইসরায়েল সংঘাতকে ঘিরে। ইসরায়েল দাবি করেছে, তারা ইরানের বিরুদ্ধে একটি “পূর্ব-নির্ধারিত আক্রমণ” চালিয়েছে। অন্যদিকে ইরানি গণমাধ্যম জানিয়েছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে। পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে ইসরায়েল, ইরান ও ইরাক—তিন দেশই তাদের আকাশসীমা বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে।
তেহরানে বিস্ফোরণের খবর
ইরানের সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, রাজধানী তেহরানের কেন্দ্রস্থলে পরপর তিনটি বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। ফার্স নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, তেহরানের রিপাবলিক এলাকায় একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে বলে তাদের কাছে তথ্য এসেছে। তবে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিস্তারিত কিছু জানানো হয়নি।
ইসরায়েলি সূত্র এই হামলাকে “পূর্ব-নির্ধারিত” বলে উল্লেখ করেছে, যা থেকে ধারণা করা হচ্ছে যে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে পরিকল্পিতভাবেই এই সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ইসরায়েলে জরুরি অবস্থা
হামলার প্রেক্ষাপটে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ সারা দেশে “বিশেষ এবং স্থায়ী জরুরি অবস্থা” ঘোষণা করেছেন। এক বিবৃতিতে তিনি বলেন, দেশজুড়ে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং সম্ভাব্য পাল্টা হামলার আশঙ্কায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে।
শনিবার সকালে ইরানে হামলার পরপরই ইসরায়েল তাদের আকাশসীমা সব বেসামরিক বিমানের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানায়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত কোনো বাণিজ্যিক ফ্লাইট চলাচল করতে পারবে না।
ইরান ও ইরাকের আকাশসীমাও বন্ধ
ইসরায়েলের পদক্ষেপের পরপরই ইরানও তাদের আকাশসীমা বন্ধ করে দেয়। ইরানের বিপ্লবী গার্ডের সঙ্গে সম্পর্কিত তাসনিম নিউজ এজেন্সি এ তথ্য নিশ্চিত করেছে। একই সময়ে ইরাকের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, দেশটির পরিবহন মন্ত্রণালয়ও নিরাপত্তাজনিত কারণে আকাশসীমা সাময়িকভাবে বন্ধের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
ফলে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশপথে বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছে এবং আন্তর্জাতিক ফ্লাইটগুলোর রুট পরিবর্তন বা স্থগিতের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ট্রাম্পের ‘বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান’ ঘোষণা
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক ভিডিও বার্তায় জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানে “বড় ধরনের যুদ্ধাভিযান” চালিয়েছে। তিনি এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের সংশ্লিষ্টতা নিশ্চিত করেন।
ট্রাম্প বলেন, ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্রের অধিকারী হতে দেওয়া হবে না। “আমরা বারবার একটি চুক্তি চেয়েছি। আমরা চেষ্টা করেছি,” উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমরা তাদের ক্ষেপণাস্ত্র ধ্বংস ও ক্ষেপণাস্ত্র কারখানা জ্বালিয়ে দিতে যাচ্ছি। এটা পুরোপুরি ধ্বংস করা হবে।”
তার বক্তব্যে স্পষ্ট ইঙ্গিত মিলেছে যে যুক্তরাষ্ট্র সরাসরি সামরিক পদক্ষেপে যুক্ত হয়েছে এবং ইরানের সামরিক সক্ষমতা, বিশেষ করে ক্ষেপণাস্ত্র অবকাঠামো লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
উত্তেজনার নতুন অধ্যায়
বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যে বৃহত্তর সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা বাড়িয়ে দিয়েছে। ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি সম্পৃক্ততা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে। তিন দেশের আকাশসীমা বন্ধ হওয়া পরিস্থিতির গুরুতরতা আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।
পরিস্থিতি দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আরও বিবৃতি ও সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা থাকায় আন্তর্জাতিক মহল গভীর উদ্বেগের সঙ্গে ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করছে।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0