সাপ্তাহিক প্রায় ৯ বিলিয়ন শেকেল ক্ষতির মুখে ইসরায়েল, মধ্যপ্রাচ্যে বাড়ছে উত্তেজনা
যুদ্ধের প্রভাবে সাপ্তাহিক বিপুল ক্ষতির মুখে ইসরায়েল
ইরানের সঙ্গে চলমান সংঘাতের জেরে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা সংকটে পড়েছে ইসরায়েল। ইসরায়েলি অর্থ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে দেশটির সাপ্তাহিক অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে প্রায় ৯ বিলিয়ন শেকেল। চলমান সংঘাতের ফলে দেশের অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
গত শনিবার থেকে ইরানের পারমাণবিক ও ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঠেকানোর উদ্দেশ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানের বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা শুরু করে। এর জবাবে ইরান ইসরায়েলের বিভিন্ন শহর ও গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাকে লক্ষ্য করে পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে। একই সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ঘাঁটি এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলোতেও হামলার চেষ্টা চালানো হচ্ছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বর্তমানে ইসরায়েলজুড়ে ‘রেড লেভেল’ বা সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি রয়েছে। এই সতর্কতার আওতায় কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত সীমিত করা হয়েছে, স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখা হয়েছে এবং যেকোনো ধরনের জনসমাবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। জরুরি সেবা ছাড়া অধিকাংশ প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে এবং বেশিরভাগ কর্মচারী বাড়ি থেকে কাজ করছেন।
তবে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বৃহস্পতিবার থেকে কিছু ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ শিথিল করা হতে পারে। সতর্কতার মাত্রা ‘রেড লেভেল’ থেকে কমিয়ে ‘অরেঞ্জ লেভেল’ এ নামানো হলে অর্থনৈতিক ক্ষতির পরিমাণও কমে আসবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, তখন সাপ্তাহিক ক্ষতি প্রায় ৪ দশমিক ৩ বিলিয়ন শেকেলে নেমে আসতে পারে।
এদিকে ইরানে হামলার পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন অঞ্চলে উত্তেজনা দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে। পাল্টাপাল্টি হামলার কারণে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের জ্বালানি রপ্তানিতেও বিঘ্ন ঘটছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহন পথ হওয়ায় এ অঞ্চলের পরিস্থিতি বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারেও প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
আমেরিকান ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এই সামরিক অভিযান কয়েক সপ্তাহ পর্যন্ত চলতে পারে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে দীর্ঘমেয়াদি অস্থিতিশীলতার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, যুদ্ধের আগে ইসরায়েলের অর্থনীতি তুলনামূলকভাবে শক্ত অবস্থানে ছিল। স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাসকে নির্মূল করার লক্ষ্যে ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় দীর্ঘ সামরিক অভিযান চালানোর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে চাপ সৃষ্টি হলেও ২০২৫ সালে ইসরায়েলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল প্রায় ৩ দশমিক ১ শতাংশ।
গত বছরের অক্টোবর মাসে যুদ্ধবিরতির পর ধারণা করা হচ্ছিল ২০২৬ সালে ইসরায়েলের প্রবৃদ্ধির হার ৫ শতাংশেরও বেশি হতে পারে। কিন্তু ইরানের সঙ্গে নতুন করে সংঘাত শুরু হওয়ায় সেই সম্ভাবনা এখন অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, দীর্ঘমেয়াদে যুদ্ধ অব্যাহত থাকলে শুধু ইসরায়েল নয়, পুরো মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনীতি ও নিরাপত্তা পরিস্থিতির ওপর এর নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে জ্বালানি বাজার, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও এর প্রতিক্রিয়া দেখা দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
প্রসঙ্গত, বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এক মার্কিন ডলার সমান তিন শেকেলের কিছু বেশি।
What's Your Reaction?
Like
0
Dislike
0
Love
0
Funny
0
Angry
0
Sad
0
Wow
0