তেহরানে সরকার বদলের ইঙ্গিত

ট্রাম্পের মন্তব্যে ইরানে ‘শাসন পরিবর্তন’

Feb 14, 2026 - 12:55
 0  3
তেহরানে সরকার বদলের ইঙ্গিত
আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি ও ডোনাল্ড ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানে সরকার পরিবর্তনই হয়তো সবচেয়ে ভালো সমাধান হতে পারে। শুক্রবার দেওয়া তার এই মন্তব্যকে অনেক বিশ্লেষক তেহরানের ধর্মীয় নেতৃত্বকে সরিয়ে দেওয়ার পক্ষে স্পষ্ট সমর্থন হিসেবে দেখছেন।

ট্রাম্প বলেন, “৪৭ বছর ধরে তারা শুধু কথাই বলে যাচ্ছে। এর মধ্যে আমরা বহু প্রাণ হারিয়েছি।” যদিও ইরানের নেতৃত্বে কাকে দেখতে চান—সেটি স্পষ্ট করেননি তিনি। তবে ইঙ্গিত দেন, দেশটিতে এমন অনেক ব্যক্তি রয়েছেন যারা দায়িত্ব নেওয়ার সক্ষমতা রাখেন।

ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আলি খামেনি এখনো ট্রাম্পের এ বক্তব্যের সরাসরি প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তেহরান বরাবরই যুক্তরাষ্ট্রের ‘হস্তক্ষেপমূলক’ অবস্থানের সমালোচনা করে আসছে।

মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় বিমানবাহী রণতরী

ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দ্বিতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের ঘোষণা দিয়েছে। বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ ও আধুনিক যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস জেরাল্ড আর. ফোর্ড-কে ক্যারিবীয় অঞ্চল থেকে দ্রুত মধ্যপ্রাচ্যে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন ট্রাম্প। নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘সোশ্যাল ট্রুথ’-এ তিনি রণতরীটির একটি আকাশচিত্রও প্রকাশ করেন।

এর আগে থেকেই সেখানে অবস্থান করছে ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন। জানুয়ারিতে পেন্টাগন জাহাজটি ওই অঞ্চলে পাঠায়। সে সময় ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে কঠোর অভিযানের জেরে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। মানবাধিকার সংস্থাগুলোর মতে, ওই দমন-পীড়নে হাজারো মানুষ নিহত হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, এই দ্বৈত রণতরী মোতায়েন শুধু কূটনৈতিক বার্তা নয়, বরং সম্ভাব্য সামরিক প্রস্তুতিরও ইঙ্গিত বহন করছে।

পারমাণবিক ইস্যু ও কূটনৈতিক টানাপোড়েন

ইরানের সঙ্গে নতুন পারমাণবিক সমঝোতা চুক্তির বিষয়ে ট্রাম্প প্রশাসন আবারও চাপ বাড়িয়েছে। এর আগে তিনি সতর্ক করেছিলেন, সমঝোতা না হলে সামরিক পদক্ষেপ বিবেচনায় আনা হতে পারে। তবে সম্প্রতি বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু-এর সঙ্গে হোয়াইট হাউসে বৈঠকের পর তিনি তেহরানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ফোর্ট ব্র্যাগে দেওয়া এক ভাষণে ট্রাম্প বলেন, হামলা এড়াতে হলে ইরানকে “প্রথমবারেই যে চুক্তি দেওয়া উচিত ছিল, সেটি এখন দিতে হবে।”

ওয়াশিংটন চাইছে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম স্থগিত রাখুক। অন্যদিকে ইসরায়েলি নেতৃত্ব বলছে, তেহরানকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি সীমিত করার পাশাপাশি হেজবুল্লাহ ও হামাসের মতো সংগঠনের প্রতি সমর্থন বন্ধ করতে হবে।

ইরান জানিয়েছে, অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিনিময়ে তারা তাদের পারমাণবিক কর্মসূচিতে কিছু সীমাবদ্ধতা আনতে প্রস্তুত। তবে দেশটির প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান স্পষ্ট করে দিয়েছেন, “অতিরিক্ত দাবির কাছে নতি স্বীকার করা হবে না।”

উল্লেখ্য, ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে বারাক ওবামা আমলে স্বাক্ষরিত পারমাণবিক চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেন এবং পুনরায় কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন, যা ইরানের অর্থনীতিতে বড় চাপ সৃষ্টি করে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা, ইসরায়েল-ইরান বৈরিতা এবং পারমাণবিক আলোচনার অনিশ্চয়তার মধ্যে ট্রাম্পের ‘শাসন পরিবর্তন’ মন্তব্য নতুন করে ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক মহল পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0