নাভালনিকে 'ব্যাঙের বিষ দিয়ে হত্যার' অভিযোগ অস্বীকার রাশিয়ার

রাশিয়ার সবচেয়ে প্রভাবশালী বিরোধী নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনিকে বিষাক্ত ডার্ট ফ্রগের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে যুক্তরাজ্য ও তার ইউরোপীয় মিত্ররা।

Feb 15, 2026 - 18:30
 0  2
নাভালনিকে 'ব্যাঙের বিষ দিয়ে হত্যার' অভিযোগ অস্বীকার রাশিয়ার
অ্যালেক্সেই নাভালনি রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কট্টর সমালোচক হিসেবে পরিচিত ছিলেন

রাশিয়ার প্রভাবশালী বিরোধী নেতা Alexei Navalny-কে প্রাণঘাতী ডার্ট ফ্রগের বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে—এমন অভিযোগ তুলেছে যুক্তরাজ্য ও কয়েকটি ইউরোপীয় দেশ। জার্মানির মিউনিখে অনুষ্ঠিত নিরাপত্তা সম্মেলনে এ দাবি তুলে রুশ প্রেসিডেন্ট Vladimir Putin-এর প্রশাসনকে সরাসরি দায়ী করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী Yvette Cooper। তবে ক্রেমলিন এই অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।

দুই বছর আগে সাইবেরিয়ার একটি দণ্ডশিবিরে বন্দি অবস্থায় নাভালনির মৃত্যু হয়। তখন তার বয়স ছিল ৪৭ বছর। রুশ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছিল, তিনি হঠাৎ হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। কিন্তু যুক্তরাজ্য ও তার মিত্রদের দাবি, পরীক্ষায় নাভালনির শরীরে ‘এপিবাটিডিন’ নামের একটি অত্যন্ত শক্তিশালী বিষের উপস্থিতি পাওয়া গেছে, যা দক্ষিণ আমেরিকার ডার্ট ফ্রগ থেকে উৎপন্ন হয়।

ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “কারাগারে বন্দি অবস্থায় এমন একটি বিরল ও প্রাণঘাতী বিষ প্রয়োগের সক্ষমতা, উদ্দেশ্য ও সুযোগ কেবল রুশ সরকারেরই ছিল।” তিনি আরও দাবি করেন, নাভালনিকে পুতিন প্রশাসন একটি রাজনৈতিক হুমকি হিসেবে দেখত।

রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস এই অভিযোগকে “তথ্যভিত্তিক নয়” এবং “রাজনৈতিক প্রচারণা” হিসেবে বর্ণনা করেছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, পশ্চিমা দেশগুলো রাশিয়াকে আন্তর্জাতিকভাবে চাপে ফেলতে পরিকল্পিতভাবে এ ধরনের অভিযোগ তুলছে।

যৌথ বিবৃতি ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

যুক্তরাজ্য, সুইডেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও নেদারল্যান্ডস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছে, নাভালনির মৃত্যুর জন্য রাশিয়াকে দায়ী করা ছাড়া অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা নেই। বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, ডার্ট ফ্রগের এপিবাটিডিন প্রাকৃতিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার রেইনফরেস্ট অঞ্চলে পাওয়া যায় এবং রাশিয়ায় এটি স্বাভাবিকভাবে বিদ্যমান নয়।

রাসায়নিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ সংস্থা (OPCW)-কে বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ পররাষ্ট্র দপ্তর।

ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী Keir Starmer নাভালনিকে “অত্যন্ত সাহসী” নেতা হিসেবে আখ্যা দিয়ে বলেন, গণতন্ত্র ও সত্য প্রকাশের জন্য তার লড়াই বিশ্ব স্মরণে রাখবে। ফ্রান্সের পররাষ্ট্রমন্ত্রী Jean-Noel Barrot-ও নাভালনির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তাকে “স্বাধীন ও গণতান্ত্রিক রাশিয়ার কণ্ঠস্বর” হিসেবে বর্ণনা করেন।

দীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই ও আগের বিষপ্রয়োগ

নাভালনি রাশিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের মাধ্যমে আলোচনায় আসেন। তিনি পুতিনের ইউনাইটেড রাশিয়া দলকে “অসৎ ও চোরদের দল” বলে অভিহিত করেছিলেন। ২০১১ সালের নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ তুলে প্রতিবাদ করলে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। ২০১৩ সালে আত্মসাতের অভিযোগে দণ্ডিত হন, যা তিনি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন।

২০১৮ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে অংশ নিতে চাইলেও তাকে প্রার্থিতা দেওয়া হয়নি। ২০২০ সালে বিষপ্রয়োগের আরেকটি ঘটনায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে তিনি জার্মানিতে চিকিৎসা নেন। পাঁচ মাস পর ২০২১ সালের জানুয়ারিতে মস্কো ফেরার সঙ্গে সঙ্গেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

নাভালনির স্ত্রী Yulia Navalnaya বরাবরই দাবি করে আসছিলেন, তার স্বামীকে পরিকল্পিতভাবে বিষ প্রয়োগ করে হত্যা করা হয়েছে। মিউনিখ সম্মেলনের ফাঁকে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী।

ডার্ট ফ্রগের বিষ কতটা শক্তিশালী?

বিশেষজ্ঞদের মতে, এপিবাটিডিন অত্যন্ত শক্তিশালী নিউরোটক্সিন, যা মরফিনের চেয়েও বহু গুণ বেশি কার্যকর। অল্পমাত্রায় প্রয়োগেও এটি স্নায়ুতন্ত্রে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। ঐতিহাসিকভাবে দক্ষিণ আমেরিকার কিছু আদিবাসী গোষ্ঠী শিকারে তীরের অগ্রভাগে এ ধরনের বিষ ব্যবহার করত।

বিশ্লেষকদের মতে, যদি এ অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হয়, তবে এটি আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার পথ উন্মুক্ত হতে পারে। তবে মস্কো দৃঢ়ভাবে অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করায় বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।

What's Your Reaction?

Like Like 0
Dislike Dislike 0
Love Love 0
Funny Funny 0
Angry Angry 0
Sad Sad 0
Wow Wow 0